সুস্থ প্রবাসীদের যেসব সুবিধা দিচ্ছে আর্মি ক্যাম্প

প্রবাস ডেস্ক : ‘আমরা আর্মি ক্যাম্পে ভালো আছি৷ খাবারের মান খুবই উন্নত। রোজাদারদের জন্য সেহরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা নিজেদের মতো সালাত আদায় করতে পারি। অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারি। এখানে আসার পর আমাদের সবাইকে ৫০ জিবি ডাটাসহ ফ্রি সিম দেওয়া হয়েছে’৷

কথাগুলো বলছিলেন সিঙ্গাপুরে আর্মি ক্যাম্পে অবস্থানকারী এক প্রবাসী বাংলাদেশি। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে মোবাইল ভ্যানে কাপড় ও খাবার বিক্রি করা হয়। যাদের প্রয়োজন তারা খাবার ও কাপড় কিনতে পারে। আমাদের বলা হয়েছে সোয়াব টেস্ট করা হবে। সোয়াব টেস্টে পরপর দু’বার নেগেটিভ রেজাল্ট আসলে আমাদেরকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে’।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়ার পথে এমন ৩ হাজারের বেশি অভিবাসীকর্মীকে সিঙ্গাপুর আর্মি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। মোট ৬টি ক্যাম্পে তাদের রাখা হয় এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে৷ এটা কার্যকর হয়েছে গত ২৮ শে এপ্রিল থেকে৷ যারা শারীরিকভাবে ভালো আছেন, যাদের আর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন নেই তাদেরকেই এই আর্মি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে৷

সিঙ্গাপুরে প্রতিদিন অভিবাসীকর্মীদের মধ্যে কয়েকশো নতুন করোনাভাইরাসে সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়৷ দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী জুনের মধ্যে তারা ১০ হাজার বেডের ব্যবস্থা করবে যেখানে সুস্থ হওয়া রোগীদের রাখা হবে। এর মধ্যে আর্মি ক্যাম্পে স্থানান্তর করা তাদের পরিকল্পনার অংশ। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই তারা এই কৌশল হাতে নিয়েছে৷

আইসোলেশনে থাকা অভিবাসীকর্মীদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকাগুলির ভিত্তিতে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, পরপর দু’দিন ধরে চালানো দুটি সোয়াব টেস্টে অবশ্যই নেগেটিভ রেজাল্ট আসতে হবে। পরপর দু’বার নেগেটিভ রেজাল্ট আসলেই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে৷

যে কর্মীরা প্রথমে এই ক্যাম্পে আসেন তাদের বসবাস করার রুমে নেবার আগে তাদের চিকিৎসা অনুসারে স্ক্রিন পরীক্ষা করা হয় এবং তাদের খাদ্য তালিকা পছন্দ করা, ইনফ্রারেড ফিভার স্ক্যানিং, তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ অ্যাপ্লিকেশনগুলির মতো প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হয়।

ক্যাম্পে নিয়ে আসার পর তাদের ছোট ছোট দলে ভাগ করা হয়। যাতে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়। তাদেরকে তিনবেলা খাবার, ওয়াই-ফাই, সিম কার্ড, চিপস, বিস্কুট এবং বেসিক পোশাক কিনে দেওয়া হয়৷ তাছাড়া অনসাইট চিকিৎসক দল দৈনিক নির্ধারিত সময়ে তাদের চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তা পৌঁছে দেন।

আরও এক প্রবাসী বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকেই মানসিক অশান্তিতে ভুগছে। তারা সবসময় পরিবার নিয়ে চিন্তা করেন৷ তাদের মনে অজানা ভয় বাসা বেঁধেছে। যদি তাদের কিছু হয়ে যায় তাহলে পরিবারের কী হবে। ভয়ে অনেকে এতটাই আতঙ্কিত যে তদের চেহারার দিকে তাকানো যায় না’৷

তিনি বলেন, ‘এখানকার ডাক্তাররা খুব আন্তরিকতার সহিত তাদের সাথে কথা বলেন। আমাদের সাহস দেন৷ তারা কাছে এসে বলেন ভাই আপনি প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছেন। এই তো আর কটা দিন। খুব শীঘ্রই আপনি কাজে যোগদান করতে পারবেন৷ ডাক্তারদের মুখে এমন সুন্দর কথা শুনে অনেকের মুখে হাসি ফুটে। তারা বেঁচে থাকার জন্য উৎসাহ পান। তারা কিছুটা হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করেন’৷

এমন অনেক প্রবাসী আছে করোনাভাইরাসে পজিটিভ তা পরিবারকে জানাতে চান না। তাদের ধারণা পরিবার যদি জানতে পারে সে করোনায় পজিটিভ তাহলে পরিবারের সদস্যরা তারজন্য চিন্তা করে অসুস্থ হয়ে পড়বে৷ কি দরকার পরিবারকে অযথা চিন্তাগ্রস্থ করার৷ তারচেয়ে ভালো আমার চিন্তা আমারই থাক।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া এক বাংলাদেশি বলেন, প্রবাসীরা এরকমই; নিজে হাজারো কষ্টে থাকলেও পরিবারের কাছে হাসিমুখে বলে এইতো আছি বেশ ভালো৷

এখন পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি করোনায় আক্রান্ত রোগী কমিউনিটি আইসোলেশনে আছেন৷ তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো। শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ নেই। তবে পরীক্ষায় তাদের শরীরে এখন করোনাভাইরাস পজিটিভ। তাই তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য এক্সপো, ৬টি আর্মি ক্যাম্প ও অন্যান্য জায়গায় রাখা হয়েছে।

এক বাংলাদেশি বলেন, এক্সপোতে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় একজন আইপ্যাড চুরি করেছিল৷ তাকে সাথে সাথে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ সবাইকে অনুরোধ করব আইসোলেশনে যেখানেই থাকুন না কেন (এক্সপো, আর্মি ক্যাম্প) সিঙ্গাপুরের আইন মেনে চলুন৷ চুরি করা সিঙ্গাপুরে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ৷ চুরি করলে আইন অনুযায়ী আপনার সাজা হবে৷ চুরি করতে গিয়ে আপনার ভবিষ্যত নষ্ট করবেন না৷