ড্রিম কামস ট্রু মোমেন্টের কারিগর মুনজারিন স্মিতা

বাঙালি কনের বিয়েতে বহুল প্রচলিত লালচে আর গোলাপি ঘেষা মেকআপ বৃত্তের বাইরে অনেক আর্টিস্ট এখন ট্রেন্ডে গা না ভাসিয়ে নিজেকে ভিন্নধর্মী হিসেবে পরিচিত করিয়েছেন। সানকিসড গ্লো, স্পার্কলিং আইজ কিংবা নুড মেকআপের সঙ্গে বোল্ড আইব্রো অথবা রেড এন্ড গোল্ড; যেমনি হোক না কেন, ব্রাইডালে অভিজ্ঞ মুনজারিন স্মিতা’র কাছে পাচ্ছেন মেকআপ রসায়নের সমস্ত মিশ্রন।

তবে এই “ড্রিম কামস ট্রু” মোমেন্টের জন্য অবশ্যই কনেকে অন্তত ১ মাস আগে থেকেই ত্বক এবং চুলের প্রিপারেশন নিতে সাজেস্ট করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিংএ গ্র্যাজুয়েশনের পর মেকআপে পুরোদস্তুর প্রোফেশনাল হয়ে পড়া স্মিতা।

ইন্টারন্যাশনালি সার্টিফাইড মুনজারিনের কাছ থেকে গল্পের ছলেই ঝটপট মেকআপ সম্পর্কে যেসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেল-

*চোখের নিচে কালি পড়ছে, সঙ্গে ফোলাভাবও রয়েছে? কনসিলার লাগান তিনকোনা শেপে, তারপর ব্লেন্ড করুন। কালি তো ঢাকবেই, ফোলাভাবও কম দেখাবে।

*আইশ্যাডোর রং উজ্জ্বল দেখানোর একটা সহজ উপায় রয়েছে। প্রথমে চোখের পুরো পাতায় সাদা আইশ্যাডো পরে নিন, তার উপরে লাগান আপনার পছন্দের রঙের শ্যাডো। তফাতটা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারবেন!

*লিপস্টিক পরার আগে ঠোঁটে সামান্য পেট্রোলিয়াম জেলি ঘষে নিলে লিপস্টিক আর দাঁতে লেগে যাবে না। মুখের মধ্যে একটা আঙুল ঢুকিয়েও বাড়তি লিপস্টিক মুছে ফেলতে পারেন চট করে।

*পাতলা ঠোঁট ভরাট ও টসটসে দেখানোর জন্য ভরসা রাখুন হাইলাইটারে। লিপস্টিক পরার পর ঠোঁটের চারপাশে সামান্য হাইলাইটার লাগিয়ে নিন আর দেখুন ঠোঁট কতটা ভরাট দেখাচ্ছে!

* আইল্যাশ কার্লার সামান্য গরম করে নিলে চোখের পাতার কার্ল বেশি সময় স্থায়ী হয়।

* লিপস্টিকের রং দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইলে লিপস্টিক পরার পর প্রথমেই একটা টিস্যু পেপার দিয়ে বাড়তি রং শুষে নিন, তারপর সামান্য ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার দিয়ে ডাস্ট করে নিন।

এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে ব্রাইডাল নিয়ে কাজ করতে থাকা ‘গ্ল্যামমোর স্টুডিও বাই মুনজারিন’ পেইজ ও’নার স্মিতা বিয়ের দিনে কনের সতর্কতা মূলক বেশ কিছু টিপস দিলেন-

*বিয়ে মানেই অসংখ্য ছবি এবং ওয়েডিং ফটোশুট। আপনার কাছে যদি ছবি তোলাটাই সবচাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে অবশ্যই মেকআপ আর্টিস্টকে বলবেন ক্যামেরা মেকআপ দিতে। ক্যামেরায় ফটোজেনিক দেখাতে ভারী মেকআপের প্রয়োজন নয়। অন্যদিকে বাস্তবে যদি ছিমছাম লুক চান, সেটাও মেকআপ আর্টিস্টকে আগেই বুঝিয়ে বলবেন।

*নিজের আসল ত্বকের চাইতে ৫/৬ শেড বেশী ফর্সা হয়ে গেলে মানুষের চেহারাই বদলে যায় আসলে। নিজের বিয়ের ছবিতে নিজেকেই যদি অপরিচিত দেখায়, তবে কি ভালো লাগবে? মোটেও না। ব্যাপারটা হাস্যকরও বটে। মেকআপ আর্টিস্টকে আপনি নিজেই নির্বাচন করে দিন যে গায়ের রঙটি কেমন রাখবেন।

*যেদিন সাজবেন, তাঁর কয়েকদিন আগেই মেকআপ আর্টিস্ট বা বিউটিশিয়ানের সাথে দেখা করে ও কথা বলে নিন বিস্তারিত। সম্ভব হলে নিজের বিয়ের শাড়ি গহনাও দেখান এবং খুলে বলুন আপনি ঠিক কী চাইছেন। এতে তিনি চিন্তাভাবনা করার সময় পাবেন এবং আপনিও সুযোগ পাবেন আরও ভেবে দেখার।

*মেকআপ যতই ভালো হোক না কেন, আপনার ত্বক ও চোখ যদি সুন্দর ও উজ্জ্বল না হয় তাহলে দেখতে ভালো লাগবে না মোটেও। তাই বিউটি এক্সপার্টদের পরামর্শ মেনে মাস খানেক সময় হাতে রেখেই রূপচর্চা শুরু করুন, ভালো খান, পর্যাপ্ত ঘুমান। আসল সৌন্দর্য মেকআপে নয়, আপনার মাঝে।

*মেকআপ করা হয়ে গেলে নিজেই নিজের কিছু সেলফি তুলে দেখুন। এতে আপনি পরিষ্কার বুঝতে পারবেন যে কোথাও কোন সমস্যা আছে কিনা বা কোথাও পরিবর্তন লাগবে কিনা।

*মেকআপ আর্টিস্টের হাতে নিজেকে ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকবেন না। আপনার চোখে কী রঙের মেকআপ হবে, ঠোঁটে কেমন লিপস্টিক হবে ইত্যাদি ব্যাপার আপনি নিজেই নির্বাচন করে দিন।

*বিয়ে মানেই খোঁপা বা বেণী, এমন ধারণাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে সবার মাঝে। এই খোঁপা বা বেণী কিন্তু সবাইকে মানায় না। তাই মেকআপ আর্টিস্ট যাই বলুক না কেন, আপনি এমন কোন স্টাইল বেছে নিন যেটা আপনার পছন্দ। কাছের মানুষদের পরামর্শও নিন।

দীর্ঘস্থায়ী এবং নজরকাড়া মেকআপের জন্য বুকিং দিয়ে রাখতে পারেন এয়ারব্রাশ আর্টিস্ট স্মিতার পেইজ ‘গ্ল্যামমোর স্টুডিও বাই মুনজারিন’এ; লোকেশন গুলশান শুটিং ক্লাবের পাশে।

 

Facebook Comments