তানিয়া নোশীনের সাথে কাঠগয়নার সায়াহ্নে

ভারসিটির ক্যান্টিনে ঢুকতেই কফির আড্ডায় মেতে থাকা একদল কিশোরীর গলায় চোখে পড়ল বিশেষ ধরনের গয়না। লম্বাটে, আয়তাকার গোলাকৃতির লকেট ঝুলছে সবার গলায়। লকেটের সঙ্গে মিলিয়ে কানের দুলেও একই নকশা; বেশ লাগছে। ফ্লোরাল, টাইপোগ্রাফি কিংবা আল্পনার সাজে তৈরি এই কাঠগয়না গুলো যেন সব ধরনের পোশাকের সাথেই মানিয়ে যায়। মনোবিদ্যায় পড়ার বাল্য ইচ্ছে বাতিল করে আইনবিদ্যায় গ্রাজুয়েশন করতে থাকা তানিয়া মূলত তরুন প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে ভিন্নধর্মী এই রুচিশীল অলংকার ব্যবসায় নেমে পড়েন।

উজ্জ্বল বাহারি রং বৈচিত্র্যময় কাঠের গয়নার মূল আকর্ষণ। ছোট্ট পয়সার আদলে তৈরি লকেট দুল যেমন আছে, একাধিক লহরি মালার সঙ্গে বৈচিত্র্যময় লকেট আর দুলেরও দেখা মিলবে। এই গয়না তৈরি সম্পন্ন করতে সিনথেটিক ক্লিয়ার বার্নিশ করতে হয়। এ ছাড়া নকশা ও রং দীর্ঘস্থায়ী করতে ডিজাইন শেষে আলাদা কোটিং দেওয়া হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব গয়নার মূল উপকরণ কাঠ। কাঠের লকেটে সুতা, ফ্যাব্রিকস, পাট, চামড়া, পুঁতির মালা, রুদ্রাক্ষসহ বিভিন্ন উপকরণের ট্যাসেল জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন গয়না ঘর ‘সায়াহ্ন’র ডিজাইনার তানিয়া নোশীন ফারুকী বললেন, “কাঠগয়নার জন্যে নয় শুধু; কাঠ আর রংয়ের মিশেলে তৈরী সবধরনের অনুষঙ্গের জন্যে পরিচিত হবে আমার সায়াহ্ন। কাঠের তৈরি পণ্যকে কেবল আগেকার দিনের আভিজাত্যের মোড়কে না রেখে,বরং সৌখিন আর ট্রেন্ডি পণ্য হিসেবেই সবার সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।“

কাঠগয়নার যত্ন সম্পর্কে প্রায় ২ বছর ধরে এই বিজনেসে লেগে পড়ে থাকা তানিয়া নোশীনের কাছ থেকে জানা যায়, নিখুত ফিনিশিং এর গয়নাগুলোতে হয়তো পানি লাগলে ডিজাইন নষ্ট হবে না। তবে বেশিক্ষণ ভেজা থাকলে কাঠ ফুলে যেতে পারে। বর্ষায় একটু সাবধানে ব্যবহার করা উচিত। ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে টিস্যু দিয়ে মুছে নিতে হবে। ব্যবহারের পর তুলা বা টিস্যুতে মুড়িয়ে রাখলে অনেক দিন টিকবে।

আটপৌরে অনুষঙ্গ থেকে শুরু করে বিশেষ দিনের উপহার-সবকিছুর জন্যেই কাঠের পণ্যের ওপর যেন মানুষ ভরসা করতে পারে এবং সেই পণ্যের জন্যে যেন এক বাক্যে সবাই সায়াহ্ন’র নামটা উচ্চারণ করাই শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে কাঠকন্যা হিসেবে বহুল পরিচিত তানিয়ার স্বপ্ন আপাতত।

Facebook Comments