করোনাযুদ্ধ

শাহিনুল ইসলাম শাহিন//
নোভেল করোনাভাইরাসের মত অতীব সূক্ষ্ম, স্মার্ট ও বুদ্ধিমান একটি জীবানুর সাথে সরাসরি যুদ্ধ করে দেশকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলে, সর্বপ্রথমই দরকার- একদল সুদক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী কিংবা জনবল। তারপর প্রয়োজনীয় অস্ত্র বা যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। পৃথিবীর যেসব দেশে এই যুদ্ধ করার মত সুদক্ষ জনবল ও যন্ত্রপাতি বেশি রয়েছে, তারা খুব শীঘ্রই এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে, এবং ধীরেধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে শুরু করবে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।

এখন প্রশ্ন হলো, চলমান পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে এই ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যবার মত কি পরিমান ভাইরোলজিষ্ট, কিংবা সাধারণ সুদক্ষ জনবল ও যন্ত্রপাতি রয়েছে ? ধরে নিলাম আমাদের অনেক টাকাপয়সা রয়েছে। জায়গাও রয়েছে। এই মুহূর্তে টাকাপয়সা থাকলেই কি চাহিদামত দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা রাতারাতি উন্নত করা সম্ভব ? বর্তমানে কোভিট-১৯ যে হারে ছড়াচ্ছে, আমরা কি সেই হারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তা প্রতিহতের আরো সুদক্ষ ও কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে পারবো ?

প্রথমদিকে বিশেষজ্ঞরা বুঝিয়েছে, ১৪ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এই ভাইরাস নিজে থেকেই দুর্বল হয়ে যায়। এখন বলছে- আগামী দুই বৎসরেও এই ভাইরাস পৃথিবীর মাটি ছাড়বেনা। বুঝলাম, “করোনা” পজেটিভ হলেই কেউ মরেনা। কিন্তু পজেটিভ রোগীটা সমাজে যে পরিমান ভীতি ছড়ায়, যে ভীতির কারণে মানুষ দৈনন্দিন কাজে যেতে ভয় পায়, এহেন ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় কি ?

আমাদের সবচাইতে বড় ভুল হলো, আমরা সময়কে চিনিনা, কালের আহবানে সাড়া দেইনা। সেই আদি থেকে অদ্যাবধি আমরা মোনাজাতের ভঙ্গীতে শূন্য দুইহাত তোলবার তালিম নিয়েছি প্রচুর পরিমাণে, কিন্তু সেই হাত দুটিকে মানবসেবার জন্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ ও কর্মকঠিন হাতে পরিনত করি নাই। হাত দিয়ে এবাদত ক্বায়েম করার কোন অঙ্গীকারও আমাদের মুনাজাতে নাই। ইতোমধ্যে আমাদের সামনের সারির বহু যোদ্ধা আহত হয়ে কাতরাচ্ছে। অনেকে জীবনও বিসর্জন দিয়েছে। যদি এই ভাইরাস আরো দীর্ঘদিন থাকে (থাকার সম্ভাবণা রয়েছে), তাহলে আমার যে হাত তা দিয়ে তো “করোনা” সেম্পল সংগ্রহ করে ভাইরাসগুলোকে টিপে মারতে পারবোনা। যথেষ্ট সতর্কতার সাথে পারফেক্ট জায়গা থেকে সেম্পল নিয়ে, নির্ভুল পরীক্ষা করাতো যেনতেন পাবলিক দিয়ে সম্ভব না।

সুসংবাদ এটাই যে, “করোনা” খুবই নিরপেক্ষ, এবং যুদ্ধের রীতিনীতি ভালোই মেনে চলে, ঘরে থাকলে উড়ে এসে ঝাপটে ধরে না।  তাই আপাতত ঘরে থাকাই নিরাপদ মনে করছি। কে কি বলবেন জানিনা।

লিখেছেন: শাহিনুল ইসলাম শাহিন

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।