পটলের নির্দেশে শহরে সাংবাদিকের জমি দখল : থানায় ডায়েরী

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পটলার নির্দেশে শহরে এক সাংবাদিকের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, গত সোমবার (০৪ মে) সকালে কামালনগর এলাকার মৃত. আব্দুল হাকিম এর ছেলে ক্যাপ্টেন আহসান হাবিব পটল, শহিদুলসহ ১০/১৫ জন লোক বেআইনী ভাবে দলবদ্ধ হয়ে বাশের লাঠি সোটা নিয়ে সাংবাদিক মারুফ আহম্মদ শামীমের জমি দখল করে। তাদের বাঁধা দিলে শামীমকে মারপিট করতে থাকে, জীবননাশের হুমকি দেয় ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় তার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে (শামীম) উদ্ধার করে।
আরও জানা যায়, পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে পলাশপোল মৌজার ১০৮৫ খতিয়ানের ৩৭২৯ দাগের ১ একর ৩৮ শতকের মধ্যে ভ্রাদারী অংশের ৪৪ শতক জমির মালিক সাংবাদিক মারুফ আহম্মদ শামীম। দীর্ঘদিন ঐ জমি শামীমের দখলে ছিল। কিন্তু কাগজ-কলমে জমি না পেলেও জমিতে থাকা শামীমের সাইনবোর্ড ও সীমানা পিলার ভেঙ্গে দিয়ে হঠাৎ পটল ১০/১৫ জন লোক নিয়ে এসে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে দখল করে নিজের নামের একটি সাইনবোর্ড তুলে দিয়েছে, তা নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাতক্ষীরা থানায় হাজির হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন তিনি।
এলাকার ছালাম ও সবুরসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, এসএ ও হাল রেকর্ড অনুযায়ী ভ্রাদারী অংশমতে ওই জমির মালিক শামীম। তবে কয়েকদিন আগে ওই জমি নিজের ক্রয়কৃত বলে দাবি করেন পটল। কিন্তু পটল কাগজ-পত্র ভূয়া হলেও ক্ষমতার দাপটে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ওই জমি দখল করায় জনমনে প্রশ্নবিদ্ধের সৃষ্টি হয়েছে। শামীমের মতো আর কোনো ব্যক্তি যেন পটলের লালসার স্বীকার না হয়; সেজন্য সুষ্ঠ ন্যায় বিচার পাওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মারুফ আহম্মদ শামীম বলেন, পৈত্রিক, ক্রয় ও ভ্রাদারী অংশ সূত্রে পলাশপোল মৌজার ১০৮৫ খতিয়ানের ৩৭২৯ দাগের ১ একর ৩৮ শতকের মধ্যে ৪৪ শতক জমির প্রকৃত মালিক আমি। যার কোনো কাগজ-পত্র পটলের কাছে নেই। তবুও পটল বার বার জমি দখলের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকের সহায়তায় বসাবসি হয়। কিন্তু ওই সময় পটল জমির কোনো কাগজ-পত্র দেখাতে পারেনি। কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হলেও পটল জমি দখলে নেওয়ার পায়তারা করতে থাকে। একপর্যায়ে, গত সোমবার (০৪ মে) সকালে কামালনগর এলাকার মৃত. আব্দুল হাকিম এর ছেলে আহসান হাবিব পটল, শহিদুলসহ ১০/১৫ জন লোক নিয়ে আমার জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি তাদের বাঁধা দিলে তারা আমাকে মারপিট করে, জীবননাশের হুমকি দেয় এবং জমিতে থাকা আমার সাইনবোর্ড উঠিয়ে পটলসহ১০/১৫ লোক তার (পটল) নাম সম্বলিত একটি সাউনবোর্ড তুলে দিয়েছে। ওই সাইনবোর্ডটি আমি তুলে ফেলতে গেলেও তার লোকজন বলে চলে যা না হলে কিন্তু তোর বাড়িতে অবৈধ মাদকদ্রব্য রেখে আইনশ্ঙৃখলা বাহিনী দিয়ে ধরাইয়া দিবো। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ভবিষ্যতে আমার সহ আমার পরিবারের সদস্যদের জীবন এবং সম্পদের বড় ধরণের ক্ষতি করতে না পারে; সেজন্য বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সাতক্ষীরা থানায় হাজির হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করি
তিনি আরও বলেন, ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষের জমি জবর দখল করে বিক্রির কাজ চলমান রেখেছে পটল। তারাই ধারাবাহিকতায় জোরপূর্বক আমার জমি দখল করে নিয়েই ক্ষ্যান্ত থাকেননি; ওই জমি অন্যের কাছে বিক্রির পায়তারা করছে। যারা পটলের কাছ থেকে ওই জমি কিনবেন; তাদেরকে বলছি-অবশ্যই জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করবেন। আর তা করতে ব্যর্থ হইলে আপনাদের আমও যাবে ছালাও যাবে।
অভিযুক্ত ক্যাপ্টেন আহসান হাবিব পটল বলেন, ২৭.০৯.২০০৫ ইং তারিখে ছালেহা কালাম লিলির কাছ থেকে পলাশপোল মৌজার ১০৮৫ খতিয়ানের ৩৭২৯ দাগের ১ একর ৩৮ শতক জমি ১ কোটি ১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা মূল্যে ক্রয় করি। কিন্তু ঐ দাগের মাত্র ক্রয়কৃত জমির মালিক ইতোপূর্বে লিলি ৩০ পয়েন্ট ২ এর ৩ শতাংশ ছিল তা আমাকে বলেন নি। আমি সরল বিশ্বাসে কাগজ-পত্র না দেখে উক্ত জমি ক্রয় করি। ঐ জমির ভ্রাদারী অংশের মালিক মারুফ আহম্মদ শামীম তা আমার জানা ছিল না। জমি শামীমের দখলে ঠিকই ছিল। কিন্তু ঐ জমির ক্রয়সূত্রে লিলি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে। তখন থেকে আমার দখলে উক্ত জমি।
তিনি আরও বলেন, শামীম জমি যদি পায় তাহলে আদালতের মাধ্যমে ফারায়েজী রায় নিয়ে আসুক। তারপরে উক্ত জমি ছেড়ে দেবো আমি। যতদিন ঐ রায়ের কোনো কাগজ-পত্র দেখাতে ব্যর্থ হবে ততদিন আমি শামীমকে জমি দখল করতে দেবো না।
বিষয়টি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি আমি। তিনি একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Facebook Comments