গাবতলীতে ১০টাকা কেজি চাল ডিলার ওয়াজেদ’র অনিয়মের অভিযোগ প্রমান পেয়েছেন তদন্ত কমিটি

মুহাম্মাদ আবু মুসা, বগুড়া : বগুড়া গাবতলীর গোলাবাড়ীতে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হত দরিদ্র সুবিধা ভোগিদের মাঝে ১০টাকা কেজি চাল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রমান পেয়েছেন তদন্ত কমিটি। ফলে ডিলার ওয়াজেদ হোসেনের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমরা তদন্ত শেষে গতকাল সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ রওনক জাহান এর নিকট রিপোর্ট দাখিল করেছি।

তিনি আরো জানান, তদন্তে মাঠে ও মাষ্টার রোলের সাথে মিল পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ডিলার ওয়াজেদ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ রওনক জাহান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, তদন্ত কমিটির একটি রিপোর্ট সোমবার আমার দপ্তরে দাখিল করলেও ব্যস্ততার কারনে ভালভাবে এখনো দেখা হয়নি। তবে তদন্ত রিপাের্ট পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন-উর-রশিদ জানান, ৩সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সোমবার ইউএনও’র দপ্তরে রিপোর্ট দাখিল করার বিষয়টি আমি শুনেছি। উল্লেখ্য, গত ৭এপ্রিল উপজেলার গোলাবাড়ীতে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হত দরিদ্র সুবিধা ভোগিদের মাঝে ১০টাকা কেজি চাল বিক্রি অনিয়মের অভিযোগে ডিলার ওয়াজেদ হোসেনের চাল বিক্রি করতে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ছাড়া খাদ্য গুদাম থেকে ডিলার ওয়াজেদ হোসেন সময় অনুযায়ী চাল উত্তোলন না করায় ভ্রাম্যমান আদালত ১০হাজার টাকা জরিমানা করে আদায় করেন। অপর দিকে ১০টাকা কেজি চাল বিক্রি করার অনিয়মের অভিযোগে ৩সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করে দেন। এর প্রেক্ষিতে গত সোমবার তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন।

ডিলার ওয়াজেদ হোসেন ক্ষমতাসীন দলের সাথে জড়িত এবং স্থানীয় চকমড়িয়া গ্রামের মৃত আজের উদ্দিনের ছেলে। অপর দিকে ডিলার ওয়াজেদ হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগটি করেছেন স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও মহিষাবান ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ। তবে গত সোমবার সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ডিলারের চাল বিক্রি করারস্থানে গিয়ে দেখা যায় কিছুটা হলেও অনিয়ম আছেই। যেমন যিনি চাল নেবেন বা যার নামে কার্ড করা আছে তিনি নিজে না এসে অন্যের মাধ্যমে চাল নেন ডিলারও মাষ্টার রোলে ভুয়া বা জাল স্বাক্ষর দিয়ে দেন। আবার ক্রেতা দুই/আড়াই বছর যাবৎ দেশের বাহিরে অথচ অন্যের মাধ্যমে ভুয়া বা জাল স্বাক্ষরে ১০টাকা কেজি দরে চাল উত্তোলন করছে। চাল ক্রেতার কার্ডে পেশা দেয়া আছে দিনমজুর খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ওই ব্যক্তি স্বাবলম্বি রয়েছে। চাল ক্রেতার কার্ডে এমনও রয়েছে পেশা দিনমজুর কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ওই ব্যক্তি কলেজ ছাত্র অথবা ছাত্রলীগের সাথে জড়িত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাল ক্রেতাসহ নানা অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করেছেন সচেতন মহল।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com