ফকিরহাটে অর্গানিক বেতাগায় খিরাই চাষে বাম্পার ফলন

মান্না দে, ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার অর্গানিক বেতাগায় ৬০একর জমিতে খিরাই চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় শতাধিক চাষির মুখে খুশির হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তদারকি পরামর্শ ও নানা কৃষি উপকরণ বিতরন করায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বাম্পার ফলন হয়েছে। জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার অর্গানিক পল্লী নামে পরিচিত অর্গানিক বেতাগায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য অর্গানিক পদ্ধতিতে নানা প্রকার সবজি সহ খাদ্য উৎপাদন করা হয়। সে অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে এই অর্গানিক বেতাগায় নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও বাজাতজাত করে সারাদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এখানের প্রতিটি উৎপাদিত ফসল ক্রেতাদের কাছে আলাদা একটি কদর রয়েছে। যা স্থানীয় ক্রেতা সহ রাজধানী ঢাকা চট্রগাম ও খুলনার পাইকারী কাচা বাজার গুলিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেখা গেছে, অর্গানিক বেতাগার প্রায় শর্তাধিক চাষি এবার খিরাই চাষ করেছেন। ফলন ভাল হওয়ায় চাষিরা বিজয় খুশি। মাসকাটা গ্রামের খিরাই চাষি মৃতঃ হাবিবুর রহমানের পুত্র তরিকুল ইসলাম তার নিজ ৫০শতক জমিতে এবার খিরাই চাষ করেছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর ফলনও ভাল হয়েছে। তিনি বলেন, অগ্রহায়ন মাসের ১০/১১তারিথে তিনি বীজ রোপন করে গাছ উঠার পর জমিতে একাধিকবার সেচ প্রদান করেন। এর পর গাছের গোড়াই জৈব সার প্রয়োগ করে পিলু তৈরী করে সেখানে পানি সরবরাহ করেন। তিনি বলেন স্বল্প খরচে অধিক ফলন পেতে খিরাই এর কোন তুলনা হয় না। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে তিনি খিরাই ক্ষেত হতে প্রায় ২০/৩০মন খিরাই তুলে বাজারে বিক্রয় করছেন। বাজারে এখন প্রতি কেজি খিরাই এর মূল্য ১৮থেকে ২০টাকা দরে বিক্রয় করছেন। যা হিসাব অনুয়ায়ী সপ্তাহে তিনি খিরাই বিক্রয় করেন ১৩থেকে ১৪হাজার টাকা আয় করেন। স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় স্থানীয় অনেক চাষিরা খিরাই চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছেন। কৃষক দেবাতোষ দাশ ও তার স্ত্রী অম্বিকা রানী দাশ তার নিজ ৫১শতক জমিতে খিরাই এর চাষ করেছেন। ফলন ভাল হওয়ায় তারা খুব খুশি। এছাড়া একই বিলের চাষি সুনীল দাশ ৩০শতক জমিতে, দেলোয়ার হোসেন ৪০শতক, সাইফুল ইসলাম ৩০শতক, লতিফ শেখ ৩০শতক, আব্দুর রাজ্জাক ২০শতক, আজিজুর রহমান ২০শতক, আজিজুল ইসলাম ২০শতক, নিমাই দেবনাথ ২০শতক, জাকির হোসেন ৫০শতক, তপন দেবনাথ ২০শতক, অমল দেবনাথ ২০শতক, ইউসুফ আলী ২০শতক, আব্দুর জলিল শেখ ৩০শতক, খলিলুর রহমান ৩০শতক, আলতাপ হোসেন ২০শতক, জাহাংগীর হোসেন ২০শতক ও মনোতোষ দাশ ২০শতক জমিতে খিরাই চাষ করেছেন। এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ মুলা আম সরিসা ও কুমড়া ক্ষেতের মধ্যে খিরাই এর চাষ করেছেন। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করণে অর্গানিক বেতাগা এখন সারাদেশের মধ্যে একটি মডেলে পরিনত হয়েছে। এবিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার প্রদীপ কুমার মন্ডল ও উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাছরুল মিল্লাত এর সাথে আলাপ করা হলে তাঁরা বলেন, অর্গানিক বেতাগার শতাধিক কৃষক প্রতিবছর অন্যান্য ফসল উঠিয়ে খিরাই এর চাষ করেন। আমরা সেই সমস্ত চাষিদের নানা প্রকার পরামর্শ ছাড়াও পোকা মাকড় দমনের জন্য সেক্স ফেরোমন ফাঁদ সার বীজ ও অন্যান্য উপকরণ বিতরন করে থাকি। এবারও কৃষকদের মাঝে নানা প্রকার কৃষি উপকরণ বিতরন করেছি। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ স্বপন দাশ এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, আমরা খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারলেও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করণে অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছি। তাই অর্গানিক বেতাগার মত সারা উপজেলায় যাহাতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা যায় সে জন্য আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করেছি যা অচিরেই বাস্তবায়ীত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

Facebook Comments