জন্মদিনের দাওয়াতে ডেকে কিশোরীকে চারজন মিলে ধর্ষণ

সংবাদ ডেস্ক :

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় জন্মদিনের দাওয়াতে ডেকে এনে এক স্কুলছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর (নয়নপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিন বন্ধুর নামে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে। ভিকটিমের শিকার ওই ছাত্রীর মা মামলাটি করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- নয়নপুর গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে শরিফ (১৮), লিটন মিয়ার ছেলে সুজন (১৯), শরীফ (২০), কবির ও উর্মি (১৮)।

ওই স্কুলছাত্রীর মা জানান, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মাহাম্মদনগর গ্রামে তাদের বাড়ি। শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকায় ভাড়া থেকে স্বামী দিনমজুর ও তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

তার মেয়ে স্থানীয় শিশু শিক্ষা মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাশের ঘরের উর্মি তাকে সুজনের জন্মদিনের দাওয়াতে নিয়ে যায়। দাওয়াত খাওয়ার পর তাকে কোমল পানীয় ‘স্প্রিট’ খেতে বললে সে নিষেধ করে।

জোর করে তাকে স্প্রিট খাওয়ালে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে বাড়ি থেকে একটু দূরে ঝোঁপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উর্মির সহযোগিতায় তিন বন্ধু মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।

এদিকে সন্ধ্যা ৭টায় বাসায় ফিরে মেয়েকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে। খোঁজখুঁজি শেষে রাত ১০টায় বাড়ি ফেরার সময় বাড়ির গেটে অচেতন অবস্থায় তার মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যান।

পর দিন বুধবার স্কুলে গিয়ে মেয়েটি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মা তাকে বাসায় নিয়ে আসেন। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাকে অচেতন করে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে মেয়েটি।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল সাকিব জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় মেয়েকে থানায় নিয়ে এসে অভিযোগ দিলে রাতেই সহযোগী উর্মিকে গ্রেফতার করা হয়। অপর আসামিরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

ওই কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান আসামি শরিফসহ (১৮) বাকি দুজনকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

খবর কৃতজ্ঞতা: Jugantor

Facebook Comments