ফ্যাশান ডিজাইনের সম্ভাব্য কিংবা বস্তুত টপার আর্নি

গুগল সার্চে ‘কস্টিউম ডিজাইন বাংলাদেশ’ শব্দগুচ্ছের খোজে আপাত দৃষ্টিতে তাসমিত আফিয়াতের নাম ২য় পৃষ্ঠায় আসলেও, বয়সটা ৩০ পেরোনোর আগেই তার হাতে করা ডিজাইন জর্জিয়ার মিস ইউনিভার্সের মত প্ল্যাটফর্মে ঘুরে আসাটা ভবিষ্যতে স্পটলাইটে থাকার আভাসই দেয়।

ডিজাইন পারপাজে কিংবা ঘোরাঘুরির নিমিত্তেই হোক, বিদেশ বিভূঁইয়ে কম যাননি তিনি, তবে ফেসবুক ওয়াল ঘেটে অথবা আর্নির কাছে চেয়ে চিন্তেও তার একটা ভাল ছবি পাওয়া যায়নি এই ফিচারটি লেখার জন্য। অথচ তাসমিত আফিয়াতের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমা পড়েছে ‘আন্ডারকন্সট্রাকশন’ চলচ্চিত্রে পোশাক পরিকল্পনা, এবং পরবর্তীতে সুনিপুন দক্ষতা আর লিডারশীপ নৈপুন্যে সহকারী পরিচালক হবার সুযোগ। রুবায়াত হোসেনের এই ছবিতে রাহুল বোস আর শাহানা গোস্বামীসহ সব কলা-কুশলীদের পোশাক নিয়ে কাজ করার বেপারটা দেশ তো বটেই, ভারতেও বেশ সাড়া জাগিয়েছিল।

ফিরে আসি আবারও মিস ইউনিভার্স প্রসঙ্গে। মাত্র ২দিনের চটজলদি সিদ্ধান্তে আর ডিজাইনে জর্জিয়ার পথে দুষনমুক্ত বাহন রিকশায় চড়েছিলেন শিরিন আকতার শিলা, আর সেই রিকশার চালক ছিলেন তাসমিত আফিয়াত আর্নি। মিস ইউনিভার্স বেস্ট কস্টিউম ডিজাইন মডেল হবার পেছনে বাংলাদেশকেই মূলত চোখে দেখতে আর দেখাতে চেয়েছিলেন আর্নি। তাই তো কাউকে বলে দিতে হয়নি, শিলা ঠিক কোন দেশ থেকে এসেছেন। সবুজ রিকশা, লাল জামদানি, বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা আর বাংলা বর্নমালা মিলে শিলা যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে অধ্যনরত শিলাকে নিয়ে করা কস্টিউম ডিজাইন প্রসঙ্গে আর্নি বলেন, ‘শিলাকে কোনো মেয়ে বা মডেল হিসেবে নয়, আমি ওকে বাংলাদেশ হিসেবে দেখেছি, বিশ্ববাসীকেও সেটাই দেখাতে চেয়েছি। এমন একটা মাধ্যম নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি, যেটা একই সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতির অংশ ও কালারফুল। রিকশার কথাই চট করে মাথায় এসেছে। আগেও রিকশা নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এমনভাবে ডিজাইন করেছি যেন মনে হয় শিলা রিকশায় বসে আছেন। রিকশার হুডের উচ্চতা ছিল চার ফুট, প্রস্থে সাড়ে তিন ফুট। রিকশার হুডের দুই পাশে দুটি বড় মুখোশ—একটা রাজার, অন্যটা রানির। পেছনে বাঘ আর লক্ষ্মীপেঁচা। তার নিচে দুটি মোরগ। রিকশায় যেমন মিস্ত্রির নাম লেখা থাকে, এখানেও সেটা ছিল। গয়নার নকশায় ছিল বর্ণমালা। কানে ঝোলানোর জন্য অ অ এবং ক ক—এই দুই সেট দুল বানিয়েছিলাম। মাথায় পরার জন্য ছিল টিকলি।’

২০০৯ এ এনটিভি স্টাইলগুরুতে টপ টেনে ওঠা সর্ব কনিষ্ঠ ডিজাইনার থেকে শুরু করে জর্জিয়াতে মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে আসার মত অভিজ্ঞতা সঞ্চার করতে আর্নিকে অনেক উত্তেজনাপূর্ণ আর প্রতিযোগীতামূলক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় গ্রাফিক্স ডিজাইনে পড়তে শুরু করার আগে আর্নি মূলত চেয়েছিলেন বুয়েটে স্থাপত্যকলায় পড়তে। সুযোগ মেলেনি হয়তো, তবে চারুকলায় রঙ নিয়ে কাজ করতে করতে প্যাশনেট থাকার কারনে কস্টিউম ডিজাইনের দিকে ঝুকে যান।

বিজ্ঞাপন সংস্থা ‘এশিয়াটিক’এ ক্রিয়েটিভ ভিজুয়ালাইজার হিসেবে অ্যানিমেশন, ব্রান্ডিং, সেট ডিজাইন, পোস্টার ডিজাইনের কাজ করার আগে তার অভিজ্ঞতায় জমা পড়েছে ৩০টির মত টিভিসির পোশাক পরিকল্পনার কাজ আর প্রচুর পরিমানে বিজ্ঞাপন-বিলবোর্ডে ডিজাইনের কাজ। ফ্রিল্যান্সার ফ্যাশান কিংবা কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা আর্নির লালবাগ আর পুলিশ প্লাজায় দুইটি শাখা আছে নিজের ফ্যাশান হাউজ ‘স্ট্রাইড’এর।

Facebook Comments