সোনিয়া খান : রঙতুলির যুদ্ধে নামা প্রকৃত সৈনিক

“ডিজাইন সবার ভালোই লাগে, তবে তার সাথে ফ্যাশান মিশে গেলেই গোলমেলে হয়ে যায়” সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কাছে এমন অনেক শখকে বিসর্জন দিতে হয় কিছু শব্দের নিন্দনীয় অর্থের কারনে। তাই বলে নিজেকে বসিয়ে না রেখে প্রতিভার সমস্তটা ঢেলে অন্য আর সবাইকে রাঙিয়ে তোলার ক্ষুদ্র প্রয়াস নিয়ে সব সময়েই প্রস্তুত থাকেন এক সময়ের সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্রী সোনিয়া খান।

মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার পেছনে কিন্তু সেই সমাজেই থাকা মানুষদের অনুপ্রেরনা কাজে দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেনী থেকেই বিয়েবাড়ির সবাইকে মেহেদি রাঙানোর প্রতিভা এবং ইন্টারমিডিয়েটের পর ছোট চাচীকে বউ হিসেবে সাজিয়ে তোলার বেপারটা ধীরে ধীরে পরবর্তীতে পুরোদস্তুর মেকআপ আর্টে ঝুকে পড়ার দিকে প্রশমিত করে।

২০০৮ এ শুরু করে ৪ বছরের ব্যবধানে পারিবারিক কারনে স্থগিত রাখা সোনিয়ার প্রতিষ্ঠিত ‘প্রেটি লেডি বিউটি সেলুন’ আবার যাত্রা শুরু করে ২০১৫ থেকে। রান্না থেকে শুরু করে সেলাই সহ মোট ৩৫টি কোর্স করেছেন, তবে মেকআপ আর্টের মত আর কিছুই সোনিয়াকে এতোটা আকৃষ্ট করেনি।

এতোদূর আসতে সোনিয়াকে যারা অনুপ্রানিত করেছেন, তাদের মধ্যে কানিজ আলমাস খান, জাহিদ খান, আফরোজা পারভিন আর শাহিদা আহসান অন্যতম।

“মেকআপ বেইজ হিসেবে লিকুইড বেইজ বেশি পছন্দ,  আই প্যালেট বা লিপস্টিকের ক্ষেত্রে মিক্স এন্ড ম্যাচ করে কাজ করতে ভাল লাগে” জানালেন সোনিয়া। আরো জানালেন ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন পছন্দ নেই, তবে ম্যাক, মরফেড, ব্লেইম, অফরা, ওয়েট এন ওয়াইল্ড কিংবা হুদা বিউটি নিয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

“আমার সব ধরনের বউ সাজাতে ভাল্লাগে” এক চিলতে হাসি নিয়ে আরো বললেন, তার ফিউশন ব্রাইড সাজানোটা বেশি পছন্দ। তবে বউ সাজাতে তার কেমন পরিবেশে বিয়ে হচ্ছে আশে পাশের মানুষের কেমন পছন্দ, সেই বিষয় গুলো প্রাধান্য দিয়েই কাজ করেন সোনিয়া।

’১৫তে মাত্র ৫০ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করা সোনিয়ার ৩য় সন্তান এই বিউটি সেলুনের ফেসবুক পেজ ফলোয়ার ৫০ হাজার ছুই ছুই। বুকিংএর জন্য আগে থেকেই শিডিউল নিয়ে রাখতে হবে ক্লায়েন্টের চোখে মুখে ভালবাসা খোজা সোনিয়ার কাছ থেকে।

Facebook Comments