প্রধানমন্ত্রীকে নিজ ঘরে তাকানোর আহ্বান রিজভীর

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীকে নিজ ঘরে তাকানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় এসব কথা বলেন রিজভী।

গত শনিবার এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘খন্দকার মোশতাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক ছিলেন জিয়া। যদি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়া জড়িত না-ই থাকবেন, তবে খন্দকার মোশতাক তাকে কেনো সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন?’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ১৯৭০ সালে মেজর পদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন কেএম সফিউল্লাহ৷ ১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান কেএম সফিউল্লাহকে ডেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে বলেন, তখন দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধান অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন এমএজি ওসমানী। সফিউল্লাহর পদবী তখন লেফট্যানেন্ট কর্নেল ছিলো (যুদ্ধের সময় পদোন্নতিপ্রাপ্ত), তিনি সেনাপ্রধান হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে হয় এবং তাকে পূর্ণ কর্নেল পদে উন্নীত করা হয়৷ অথচ জিয়াউর রহমান ছিলেন সেসময়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

‘১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি ব্রিগেডিয়ার এবং একই বছরের ১০ অক্টোবর তিনি মেজর জেনারেল পদবী লাভ করেন, তার সঙ্গে জিয়াউর রহমানও পদোন্নতি পেয়ে উপ সেনাপ্রধান হয়েছিলেন। যারা সরকারি চাকরি করেন তারা তো পদোন্নতি পাবেন এটা স্বাভাবিক। সেটা যখন যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেনো। সুতরাং শহীদ জিয়া কারো বদান্যতায় সেনাবাহিনীর প্রধান হননি। তিনি নিজের যোগ্যতা বলেই সেনাবাহিনীর প্রধান হয়েছিলেন’।

রিজভী বলেন, ‘আজকে তার (জিয়া) সমালোচনা করে যারা কথা বলেন, তারা গণতন্ত্রের শত্রু এবং ফ্যাসিস্ট ও অবৈধ। তারা তো বিনা ভোটে সরকার। মধ্যরাতের ভোট ডাকাতির সরকার।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু এ দেশের মানুষের কাছে শহীদ জিয়া একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। জনগণের মাঝে শহীদ জিয়ার জনপ্রিয়তা অত্যন্ত উঁচুমানের। তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না।’

শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সেসময় শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই বহু নেতা তাদের আত্মতৃপ্তির কথা বলেছিলেন। তাদেরই একজন আব্দুল মালেক উকিল লন্ডনে থাকাবস্থায় বলেছিলেন যে, ‘ফেরাউনের পতন হোক’। এমনকি খন্দকার মোশতাকের শপথ বাক্য পাঠ করান তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচ টি ইমাম। আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম সিনিয়র উপদেষ্টা। কই প্রধানমন্ত্রী তো সে বিষয়ে কিছু বলেননি। অথচ পরবর্তীতে মালেক উকিলসহ হত্যাকাণ্ডের সমর্থনকারী বহু নেতাই তো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আজকে নিজের ঘরের দিকে তাকান না প্রধানমন্ত্রী। আমি বলবো আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন আর ভাবুন যে কারা খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন? ‘

মিছিলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহসানুল্লাহ হাসান, এজিএম শামসুল হক, এবিএম আবদুর রাজ্জাক, তাজুল ইসলাম, আব্দুল কাদের বাবু, নুরুল ইসলাম কাজী, তুহিন, সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, হারুনুর রশিদসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments