পায়রা উড়িয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন

নাজমুল হাসান সবুজ, খুলনা থেকে : দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করা হয়। ১৯৯০ সালের জুনে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’পাস হয়, যা গেজেট আকারে প্রকাশ হয় ওই বছর ৩১ জুলাই।
এরপর ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে চারটি ডিসিপ্লিনে ৮০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়। ১৯৯১ সালের ৩০ আগস্ট প্রথম ওরিয়েন্টেশন এবং ৩১ আগস্ট ক্লাস শুরুর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা হয়। এরপর ২০০২ সালের ২৫ নভেম্বর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয় প্রথম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এরই ধারাবাহিকতায় সেই থেকে প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ তম দিবস। এ দিন সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের হাদী চত্বরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন।
এরপর উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসের হাদী চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের হাদী চত্বর হয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ প্রশাসন ভবনের সামনে দিয়ে কটকা স্মৃতিস্তম্ভ হয়ে পুনরায় হাদী চত্বর থেকে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। পরে মুক্তমঞ্চে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কেক কাটেন।
এ সময় ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, ডিনরা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টসহ বিভাগীয় প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় মন্দিরে প্রার্থনা, বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টায় শহীদ মিনার চত্বর, অদম্য বাংলা ও কটকা স্মৃতিসৌধে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জা।
উল্লেখ্য, সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমের আজ (সোমবার) ২৯ বছর পূর্ণ করলো।