সন্ধ্যা নামলেই বখাটের উৎপাত হালিশহরের অলিগলিতে

Online desk:

নগরীর হালিশহর বি-ব্লক। দুই বন্ধুর তর্কবির্তক। কারণ ক্রিকেট খেলায় হয়নি বনিবনা, এর জেরেই হাতাহাতি। অবশেষে রুপ নেয় মারামারিতে। ঘটনাটি গত আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ের।

আর্টিলারি এলাকার মহেশখাল এলাকায় গত ২১ আগস্ট দুই গার্মেন্টস কর্মী কাজ শেষ করে ফেরার পথে পড়েন ছিনতাইয়ের কবলে। তারা উভয়ে ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। এসময় তাদের কাছ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্রসহ একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারিরা। এসময় বাড়াবাড়ি করায় স্বামীকে ইট দিয়ে আঘাতও করে তারা।

একইভাবে কোচিং শেষে সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরছেন আয়েশা (ছদ্মনাম)। তাকে দেখে পিছু নেয় কিছু বখাটে। শুরু করে শিষ আর অশালিন মন্তব্য। সাথে সিগারেটের ধোঁয়াও ছুঁড়তে থাকে। এভাবে প্রায় প্রতিদিন এসব উত্যক্তকারীদের যন্ত্রণা সহ্য করে বাসায় ফিরতে হয় তাকে।

শুধুমাত্র আয়েশা নয়, একইভাবে হালিশহরের বিভিন্ন ব্লকে তরুণীরা প্রায়শই বখাটের হাতে উত্যক্তের শিকার হচ্ছে। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেও ওইসব বখাটে গোষ্ঠী তাদের দিকে তেড়ে আসে এবং ‘বড় ভাইদের’ প্রভাব দেখায়। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস করেন না।

উপরের তিনটি ঘটনার চিত্রই বলে দেয় হালিশহরের নিরাপত্তার ভীত কেমন! এভাবেই এলাকাটি যেন বখাটেদের উৎপাত, মাদক সেবন, মারামারি, ছিনতাই আর ইভটিজিংয়ের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে হালিশহরের বিভিন্ন ব্লকে বেশ কিছু বখাটে জটলা পাকাতে শুরু করে। মাদকসেবনসহ তারা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মারামারি-ধস্তাধস্তিসহ এলাকার তরুণীদের পথও রোধ করছে। প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কয়েকটি ঘটনায় শুধুমাত্র মিমাংসা দিয়েই দায় সারছেন তারা। গ্রহণ করছেন না কোনো আইনি উদ্যোগ। ফলে এলাকায় নিরাপদ বসবাস যেন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

হালিশহর ‘এ’ ও ‘বি’ ব্লকে বিভিন্ন লেন ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে সড়কের ডিভাইডার ও বিভিন্ন লেনের সামনে ও পিছনের অংশে বখাটেদের আড্ডা শুরু হয়। চলতে থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। বিভিন্ন কোচিংয়ের সামনে জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে বেশ কিছু তরুণ-যুবক। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বাসা-বাড়ির সামনেও একইভাবে বসে আড্ডা দেয় এসব তরুণ-যুবকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বি ব্লকের ৮নম্বর লেনের এক বাসিন্দা সিভয়েসকে বলেন, ‘সন্ধ্যার পরে লেনের পূর্ব মাথা থেকে লাইন ধরে বখাটেদের আড্ডা শুরু হয়। তাদের আড্ডা দিতে বাধা দিলে, খারাপ আচরণ করে।’

একই ব্লকের ১নম্বর রোডের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রোডের উপরেই ঠেলাগাড়ি ও পরিত্যাক্ত গাড়ি পড়ে থাকায় সেখানে বসে আড্ডা দেয় বখাটেরা। এসময় চলে মাদক সেবন। ল্যাম্প পোষ্ট নষ্ট থাকায় তাদের চিহ্নিত করাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’

‘বড় ভাইয়ের’ প্রভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সামদানি জনি সিভয়েসকে বলেন, ‘বিভিন্ন সময় অপরিচিত কিছু ছেলেরা এসে আমাদের সাথে সেলফি তুলে। তারা এসব ছবিগুলোকে পুঁজি করছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নাম বিক্রি করে প্রভাব খাটাচ্ছে। কিছু স্বার্থান্বেষী নেতা এসব চক্রগুলোকে লালন করায় তারা অনৈতিক প্রভাব খাটাতে সাহস পাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধী নিজ দলের বা যতই কাছের হোক না কেন তারা যেন আইনের উর্ধ্বে না যায় সে বিষয়ে প্রশাসন ও অন্যান্য নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাশেম সিভয়েসকে বলেন, ‘মহেশখালের পাড়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু লাইট লাগানো হয়েছে। কিন্তু কিছু দিন পর দুষ্কৃতিকারীরা ছিনতাইয়ের সুবিধার্থে সেসব লাইট ভেঙ্গে ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সমস্যার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে থানায় জানিয়েছি। আমি নিজেও সরেজমিনে গিয়ে তদারকি করেছি। যতদিন তৎপরতা থাকে ততোদিন তেমন কোনো ঝামেলা দেখা যায়না।’

সিএমপি কমিশনার মাহবুবর রহমান সিভয়েসকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বরত ওসিকে এলাকাবাসী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এসময় তিনি হালিশহর থানা ওসিকে এ বিষয়ে আরও সজাগ থাকতে নির্দেশনা দিবেন বলেও জানান।

তবে একই বিষয়ে জানতে চাইলে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়েদুল হক সিভয়েসকে বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আমরা সন্ধ্যার পরে হালিশহরের সব জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছি। বেশ কয়েকজনকে আটকও করেছি। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনায় আমাদের কাছে অভিযোগ আসেনি।’

ডবলমুরিং জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আশিকুর রহমান সিভয়েসকে বলেন, ‘সন্ধ্যার পরেই এলাকাভিত্তিক আড্ডাগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য থানা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তারপরও চিহ্নিত স্থানগুলোতে আমরা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করব। এছাড়া যদি কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, সেগুলোকেও আমলে নেয়া হবে।’

Courtesy: সিভয়েস

Facebook Comments