স্টাইলিশ শপিং নিয়ে নিশাত সাকিনের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

প্রথমে আড়াই লাখ, তারপর দুই লাখ! না, এখানে কোন বিগ ডিলের পেমেন্ট টার্মস নিয়ে কথা বলা হচ্ছে না। অন্তত দু’বার নিজ হাতে একটু একটু করে গড়ে তোলা ফ্যাশান হাউজের পেজটা এক মুহূর্তেই নিখোজ হয়ে যায় ঈর্ষান্বিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের হ্যাকিং এর শিকার হয়ে। ছিল না কোন পথ-প্রদর্শক, ছিল না উপদেশ দেয়ার মত কেউ, আনাড়ি থেকে নিজেকে একজন অভিজ্ঞ করে তোলার গল্পের চাইতেও আরো বেশি রোমাঞ্চকর ছিল ধংসাবশেষ থেকে উঠে দাড়ানোর গল্পটা। ‘দেয়ার ইজ নাথিং স্ট্রঙার দ্যান এ ব্রোকেন ওমেন হু হ্যাজ রিবিল্ট হারসেলফ’ হান্না গ্যাডস বাই’য়ের বিখ্যাত উক্তিটা খুব যায় নিশাত সাকিনের সাথে। যার বিজনেস পেজ ফলোয়ার আড়াই লাখ থাকতে একবার, এরপর আবার যখন শূন্য থেকে শুরু করে দুই লাখে পৌছায় তখন দ্বিতীয়বারের মত হ্যাকিং এর শিকার হন তিনি। তবুও তিনি দমে যাননি।

প্রকৃতপক্ষে বিজনেস পেজ থাকা না থাকার চাইতে চমৎকার সার্ভিসের কারনে কাস্টোমারের কাছে আস্থার জায়গা তৈরি হয়ে যাওয়ায় ব্যক্তি নিশাত সবার কাছেই বহুল পরিচিত একজন। যে কারনে ফেসবুক থেকে পেজ ডিলিট হয়ে গেলেও প্রচুর রিটার্নিং কাস্টোমার থাকায় তারা ঠিকই নিশাতকে খুজে নেয়। এদিকে টিভি মিডিয়াতে অসংখ্য টক শো করার কারনে বিজনেস এন্টারপ্রিনিয়ার হিসেবে অনেক আগে থেকেই আলোচিত ব্যক্তিত্ব। সুতরাং হ্যাকিং এর জন্য নিশাতকে বেস্ট চয়েজ অপশন মনে করাটা নিঃসন্দেহে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল সম্মানিত হ্যাকারদের জন্য।

বুটিক বিজনেসকে যেখানে সব এন্টারপ্রিনিয়ারই নিজেকে প্রতিষ্ঠিতি করার জন্য সহজ মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়, সেখানে নিশাতের ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। অনলাইনে ইম্পোর্টেড লেডিস পার্টস এন্ড ভ্যানিটি ব্যাগ সেলিংএ খুব একটা কাউকে পাওয়া যাবে না। তবে টেকসই প্রোডাক্ট কেনার জন্য নিশাতের স্টাইলিশ শপিংএ একটু ঢু মারা যেতেই পারে। অরিজিনাল ব্র্যান্ডের নিশ্চয়তা পেতে হয়তো দু’পয়সা বেশি খরচ পড়তে পারে, তবে দীর্ঘদিনে তৈরি হওয়া আস্থায় কোন ছেদ পড়তে দিতে চান না নিশাত। সঠিক প্রোডাক্ট যথা সময় দরজায় পৌছে দিয়ে কাস্টমারের সন্তুষ্টি অর্জন করাটাই তৃতীয়ারের মত যাত্রা শুরু করা স্টাইলিশ শপিং এর লক্ষ্য।

Facebook Comments