বৃষ্টি উপেক্ষা করে আন্দোলন, ৬ষ্ঠ দিনেও উত্তাল বশেমুরবিপ্রবি’র ক্যাম্পাস

জেলা প্রশাসকের সাথে সাধারন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় বৈঠক
এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র পদত্যাগের এক দফা দাবীতে টানা ৬ষ্ঠ দিনের মত আন্দোলন করছেন সাধারন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টি উপক্ষো করে শিক্ষার্থীরা বিরতিহীন ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সময় যত গড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র পদত্যাগের দাবী ততই জোরালো হয়ে উঠছে। বেগবান হচ্ছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।
এদিকে, সোমবার অধ্যাপক মো: শাহজাহানের নের্তৃত্বে বশেমুরবিপ্রবি’র একটি শিক্ষক প্রতিনিধি দল গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার সাথে সাক্ষাত করেছেন। জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সাথে জেলা প্রশাসকের রুদ্ধদার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বশেমুরবিপ্রবি’র ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সদস্য মো: মশিউর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে তিনি উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিক্ষক ও সাধারন শিক্ষার্থীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ডেইলী সানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে বহিস্কার করার পর সাধারন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে। সাধারন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে অবৈধ এবং স্বৈরাচারী আখ্যা দেয় এবং সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীসহ ১৪ দফা দাবীতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ঘোষনা দেয়।
সাধারন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এক পর্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিনিয়ার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে এবং ১৪ দফা দাবী মেনে নেয়। কিন্তু ততক্ষণে সাধারন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিসি’র দূর্নীতি ও অপসাশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আন্দোলনে রূপ নেয়। সাধারন শিক্ষার্থীদের উপর ভিসি’র মদদপুষ্ট ক্যাডার বাহিনীর হামলায় ২০ শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনা আন্দোলনের মোমেন্টাম হিসেবে কাজ করে। সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। দূর্নীতিবাজ ভিসি’র অপসারনোর এক দফার দাবীতে সোচ্চার হয় আন্দোলনকারীরা। দ্রুত পাল্টে যেতে থাকে প্রেক্ষাপট। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ সাধারন শিক্ষার্থীদের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষনা করেন। শিক্ষার্থীদের হামলার নিন্দা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো: হুমায়ূন কবীরের পদত্যাগ, আন্দোলনে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সমর্থন ও জেলার সচেতন মহলের একাত্মতা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।

Facebook Comments