ডেঙ্গু জ্বরে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিনত হল স্কুল ছাত্রী রুসামনির পরিবারে!!

রহিম রেজা, ঝালকাঠি থেকে : প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সকলের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দাদা বাড়িতে ঈদ উদযাপন করার উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যদের সাথে দাদা বাড়িতে বেড়াতে এসে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্কুল ছাত্রী রুসা মনির (৯) মৃত্যু হয়েছে। সকলের আদরের ছোট রুসামনিকে ঘিরেই প্রতি বছর সবাই ঈদ আনন্দ করতো। এ বছরও ঈদ করার উদ্দেশ্যে তাই দাদা বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুরের গালুয়া ইউনিয়নের জীবনদাশকাঠি গ্রামে বাড়ি আসেছিলো রুসামনি। কিন্তু সর্বনাশা ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যুকে পরিবারের কেহই মেনে নিতে পারছেন না। মা-বাবা বার বার আদরের মেয়েকে হারিয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন। পরিবারের সকলের সেই ঈদ আনন্দ এখন বিষাদে পরিনত হয়েছে। কোরবানির গরু কেনা থেকে শুরু করে সব আয়োজন প্রায় শেষ তাদের পরিবারে কিন্তু রুসার মৃত্যুর খবরে সব আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। শুধু পরিবার নয় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের মাতম চলছে। ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের সাথে জ্বর নিয়ে বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে এসে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকাল ৭ টায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে শিশু শিক্ষার্থী রুসামনি। রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের জীবনদাসকাঠি গ্রামের রুহুল আমিন হাওলাদারের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে রুসা ছোট। রুসা ঢাকার ধানমন্ডি রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী। রোল নং ০২। বড় ছেলে অর্দ্র ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। রুহুল আমিন হাওলাদার জানান, কয়েকদিন পূর্বে রুসার জ্বর আসলে পরীক্ষায় ডেঙ্গু রোগ ধরা পড়ে এরপর চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ্য হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে তরল ও পানীয় খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। ঈদে সকলে বাড়িতে আসবে তাই তাকেও বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে আবার জ্বর বাড়লে শুক্রবার সকালে তাকে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল রেফার করেন। শেরে বাংলা মেডিকেলে বেড না পাওয়ায় বরিশালের বেসরকারি রাহাত আনোয়ারা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে রাত ৮টার দিকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। পরে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রুসা মনির মামা মেহেদি হাসান জসিম জানান, ঢাকা থেকে আসার পর রুসার শরীরে প্রচন্ড জ্বর ও মাথা ব্যাথা শুরু হয়। ঢাকায় বসে জ্বরে আক্রান্ত হলেও তা স্বাভাবিক দেখে তারা ঈদের ছুটিতে তাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। বরিশাল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর এতো চাপ যে হাসপাতালে পা ফেলার জায়গা ছিল না। এজন্য তার চিকিৎসায় কিছুটা বিলম্বও হয়েছে। রুসামনিকে ঘিরেই তাদের পরিবারের ঈদ আনন্দ কয়েকগুণ বেড়ে যেত। ও সকলের আদরের ছিল কিন্তু এখন সবকিছু বিষাদে পরিনত হলো।

Facebook Comments