জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, কমেছে দাম

পটুয়াখালী সংবাদদাতা : বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। ফলে দাম কমেছে ইলিশের। কম দামে ইলিশ বিক্রি করলেও খুশি জেলেরা। কারণ দীর্ঘদিন পর তাদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ।

টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। এ অবস্থায় ইলিশে সয়লাব হয়ে যায় পটুয়াখালীর হাট-বাজার। আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকায় ইলিশের কেজি বিক্রি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালী শহরের নিউ মার্কেট ও নতুন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৪০০-৫০০ গ্রামের প্রতি কেজি সাগরের ইলিশ ৩৫০-৪০০ টাকা, ৪০০-৫০০ গ্রামের প্রতি কেজি নদীর ইলিশ ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

শহরের সবুজবাগ এলাকার শ্রমজীবী রফিক ফরাজী বলেন, বৃহস্পতিবার বাজারে ইলিশের দাম অনেক কম ছিল। দাম কম হওয়ায় পাঁচ কেজি ইলিশ কিনলাম। আগের তুলনায় অনেক কমেছে ইলিশের দাম।

নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী মো. হারুন বলেন, বাজারে ইলিশ মাছের আমদানি বেড়েছে। তাই দাম কম। সামনে আরও মাছের আমদানি বাড়বে। দাম আরও কমবে। ৩৫০ টাকায় আজ এক কেজি ইলিশ কিনেছি আমি।

মহিপুর মৎস্য বন্দর ও পাইকারি বাজার ঘুরে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ৪০০-৫০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ ১৪ হাজার থেকে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, ৫৫০-৬০০ গ্রামের প্রতি মণ ইলিশ ১৯ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশের মণ ৩৫ হাজার এবং এক কেজি ও তার অধিক ওজনের ইলিশের মণ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মহিপুর মৎস্য বন্দরের হৃদয় ফিশের মালিক আলম হাওলাদার বলেন, গত বছর যে পরিমাণ ইলিশ মাছ ছিল এ বছরও সেই পরিমাণ মাছ আছে। ইলিশ মাছ বাড়েনি, তবে দাম কমেছে।

মহিপুর মৎস্য বন্দরের জেলে সোহেল বলেন, গত বছর এ মৌসুমে সাগরে যে পরিমাণ ইলিশ ছিল এ বছরও সেই পরিমাণ পাওয়া গেছে। বাজারে দাম কমলেও সাগরে ইলিশ মাছ বাড়েনি। ভারতীয় ও মিয়ানমারের জেলেরা অনেক ইলিশ আগে ধরে নিয়ে গেছে। তাই মাছ কম। সামনের দিনগুলোতে বোঝা যাবে সাগরে কি পরিমাণ ইলিশ আছে।

মহিপুর মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজলু গাজী বলেন, বর্তমানে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। তাই দাম কম। ৪০০-৫০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ ১৪ হাজার থেকে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, ৫৫০-৬০০ গ্রামের প্রতি মণ ইলিশ ১৯ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশের মণ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

Facebook Comments