বিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

রহিম রেজা, ঝালকাঠি সংবাদদাতা : ঝালকাঠির রাজাপুরের গালুয়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (গালুয়া স্কুল) হামলা ভাঙচুর, দুই শিক্ষককে মারধর ও জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ উঠেছে গালুয়া ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও যুবলীগ নেতা সৈয়দ জিয়া উদ্দিন রেজবির বিরুদ্ধে।

রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তুচ্ছ ঘটনার জেরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধরা শিক্ষার্থীরা রাজাপুর-ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে এবং বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে শিক্ষক ও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে।

এদিকে গালুয়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, গালুয়া ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও উপজেলা যুবলীগ সদস্য সৈয়দ জিয়া উদ্দিন রেজবির ছেলে ওই স্কুলের ১০ শ্রেণিতে পড়ুয়া রাফিম আহম্মেদ তামিমের সঙ্গে কাছের শরীফের ছেলে নাদিমের মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রেজবি স্কুলে এসে মৌখিক অভিযোগ করলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরমার্শ দেন এবং বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। এ নিয়ে স্কুলের সভাপতির সাথে আলাপ ও উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার প্রস্তুতি চলমান ছিল।

তিনি অভিযোগ করে আরও জানান, রোববার সকালে হঠাৎ ওই ঘটনার জের ধরে যুবলীগ নেতা সৈয়দ জিয়া উদ্দিন রেজবির নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে এসে স্কুলে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় তারা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান ও কম্পিউটার বিষয়ের সহকারি মাইনুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং জাতীয় পতাকা খুলে ছিঁড়ে বাথরুমের পাশে ফেলে দেয়।

এ বিষয়ে সভাপতি গালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক কামালের সাথে আলোচনা করে থানায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হবে বলেও জানান স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান এ শিক্ষক।

যুবলীগ নেতা সৈয়দ জিয়া উদ্দিন রেজবি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার ছেলে তামিমকে রোববার সকালে স্কুলে আসার পথে নাদিমসহ কয়েকজন মিলে কুপিয়ে জখম করেছে, সে বর্তমানে রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি। জখমী ছেলেকে নিয়ে সকালে থানায় গিয়ে মামলা করবো এই ভেবে প্রতিপক্ষরা স্কুলে নাটক সাজিয়ে উল্টো তাকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি তার ছেলের উপর হামলার বিচার দাবি করেন। এর আগেও কয়েক বার তার ছেলেকে মারধর করলে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বারবার জানালেও কোন ব্যবস্থা না নিয়ে হামলাকারীদের পক্ষাবলম্বন করেন বলে অভিযোগ রেজবির।

রাজাপুর থানার এসআই মোঃ শাহজাদা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে এবং শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সাথে কথা হয়েছে, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

Facebook Comments