বেনাপোল চেকপোস্টে রেড এ্যালার্ট জারি

এস এম মারুফ, শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে রেড এ্যালার্ট জারি করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এর নির্দেশনা অনুযায়ী ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এ সতর্কতা জারির নির্দেশ দেয়া হয়। এর ফলে চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে অতিরিক্ত সতর্কতার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

ফেনির মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে এবং তা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগােযাগ মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল আইনে মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বেনাপোল আন্তজার্তিক চেকপোস্ট দিয়ে যাতে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে এ জন্য রেড এ্যালার্ট জারি করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী প্রত্যেক পাসপোর্টযাত্রীকে যাচাই বাছাই করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাদের যাতায়াতের অনুমতি দিচ্ছে চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পাসপোর্টের মাধ্যমে ভূয়া নাম, ঠিকানা ব্যবহার করে ওসি মোয়াজ্জেম যেন ভারতে পালাতে না পারে সে জন্য বহির্গমণ ডেক্স অফিসারদের সামনে ছবি সেটে দেওয়া হয়েছে। কোন পাসপোর্ট যাত্রীর নামের সাথে অপরাধী নাম মিলে গেলে তাদের ছবি ও ঠিকানা কঠোরভাবে যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বাংলাদেশের সব স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আবুল বাশার জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে চেকপোস্টে রেড এ্যালার্ট এর ব্যাপারে নির্দেশ এসেছে। সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন এ পথে যেন ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে এ রকম নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পরপরই গোটা ইমিগ্রেশন এলাকায় ব্যাপক সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পাসপোর্ট যাত্রীর চেহারার সাথে ছবি মিলিয়ে যাত্রীকে ভারত গমণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ইমিগ্রেশন ছাড়াও নো-ম্যান্সল্যান্ড ও আশেপাশে সতর্ক আছে পুলিশ।

সীমান্তের শার্শা ও পোর্ট থানা পুলিশও সতর্ক আছে বলে জানান পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম।

উল্লেখ্য, ফেনির সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে এবং তা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। এ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ২৭ মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। কিন্তু তাঁকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে গড়িমসির অভিযোগ ওঠে।

এ অবস্থায় গত রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। যশোরে তার বাড়িতেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পৌঁছেছে। ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

Facebook Comments