মার্চ ৬, ২০২১

Latest News Before Everyone in Bangladesh

ববি উপাচার্যকে ৪৬ দিনের ছুটি, দায়িত্বে ট্রেজারার

১ min read

বরিশাল সংবাদদাতা : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের টানা ৩৫ দিনের আন্দোলনের মাথায় উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হককে তার মেয়াদকাল পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হককে ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে ১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত (৪৬ দিন) ছুটি মঞ্জুর করেছেন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. একেএম মাহবুব হাসান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে উপাচার্যকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়ায় খুশি আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী জানান, স্বৈরাচারী উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। উপাচাযের্র চাকরির মেয়াদকাল শেষ হবে ২৭ মে । ওই দিন পর্যন্ত তকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর কারণে দাবি পূরণ হয়েছে। এ কারণে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস বলেন, উপাচার্য ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। তবে এরপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের অচল অবস্থা নিরসন হয়নি। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তার অবশিষ্ট মেয়াদ অর্থাৎ ২৭ মে পর্যন্ত একটি ছুটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে আবেদনটি অগ্রগামী করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলে তার অনুমোদনক্রমে উপাচার্যের ৪৬ দিনের জন্য ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে।

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের উপাচার্য ‘রাজাকারের বাঁচ্চা’ বলেছেন বলে অভিযোগ তুলে ২৮ মার্চ থেকে ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থী।

একই দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্লাস-পরীক্ষা এবং আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে ওইদিনই উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। উপাচার্য ২৯ মার্চ তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মশাল মিছিল, রক্ত দিয়ে দেয়াল লিখন, প্রতীকী অনশন, কালো কাপড়ে মুখে বেঁধে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

Facebook Comments