নুসরাত হারেনি, হেরেছি আমরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী মিরান শাহা মুন্নার সঞ্চালনায় ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, ধর্ষণ-খুনের বিচার না হওয়ায় রাষ্ট্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। তারই শেষ পরিণতি নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ড। এতে নুসরাত হারেনি, হেরেছি আমরা, হেরেছে আমাদের সভ্যতা। পাশাপাশি যারা ধর্ষক ও খুনির পক্ষে রাস্তায় নামে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানাই।

বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করে তাহলে কোথায় নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হলো, আইনের আশ্রয় নেয়া হলো এরপরও দৃশ্যমান কিছুই হলো না। বরং পরীক্ষার হল থেকে বের করে পুড়িয়ে মারা হলো। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানান তারা।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মামুন হায়দার রানা, রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর, শিক্ষার্থী ইসরাফিল আলম, মাজহারুল ইসলাম ও মারুফ আহমেদ।

৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। ওই সময় তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে এক ছাত্রীর এমন সংবাদে ভবনের চারতলায় যান তিনি। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচ ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত জাহান রাফি মারা যান।

Facebook Comments