কমলাপুর রেলস্টেশন: শৌচাগার না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ

কমলাপুর রেলস্টেশনে শুধু এসি ও কেবিনে ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্য তিনটি অত্যাধুনিক শৌচাগার রয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে তাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ অপেক্ষাকৃত বেশি।

 

গুরুত্বপূর্ণ এই রেলস্টেশনে প্লাটফর্মের সংখ্যা ৯। প্রতিদিন এ স্টেশনে ৬৪টি আন্তঃনগর ও ১৪৩টি লোকাল যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। প্রতি ঈদে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ যাত্রী এ স্টেশনে যাতায়াত করে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার বিকালে এ প্রতিবেদকের কথা হয় রেলওয়ে মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলমের সঙ্গে।

কাজী রফিকুল বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন। বলেন, স্টেশনের ভেতর সাধারণ যাত্রীদের জন্য শৌচাগার নেই। স্টেশনের বাইরে একটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও তা খুবই জরাজীর্ণ।

 

স্টেশনের ভেতরে ভিআইপি, এসি-কেবিনে ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্য যে অত্যাধুনিক শৌচাগার রয়েছে তা সাধারণ যাত্রীরাও যাতে ব্যবহার করতে পারে, দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। আমরা নতুন করে স্টেশনের ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের জন্য আরও শৌচাগার বানাব।

 

কমলাপুর রেলস্টেশন সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, এ স্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তাদের জন্য শৌচাগার না থাকা। এর ফলে পুরো স্টেশনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা বাধ্য হয়েই প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের শৌচাগার করে। এতে পুরো স্টেশন দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

 

মলমূত্রে ছেয়ে যায় প্লাটফর্ম সংলগ্ন রেললাইনগুলো। পরিবেশ দূষিত হয়। অনেক পুরুষ যাত্রী স্টেশন ঘেঁষা দেয়াল ও পরিত্যক্ত রেললাইনে প্রাকৃতিক কাজ সারে। বিষয়টি একদিকে দৃষ্টিকটু, অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের জন্য শৌচাগার না থাকার বিষয়টি চরম বৈষম্যের। এদিকে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী যুগান্তরকে জানান, স্টেশনের ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের জন্য টয়লেট না থাকলেও স্টেশন থেকে সাধারণ গেট দিয়ে বের হওয়ার মুখে বাম পাশে একটি শৌচাগার রয়েছে। স্টেশনের বাইরে আরেকটি গণশৌচাগার রয়েছে।

 

স্টেশনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, এ স্টেশন হয়ে প্রতিদিন যত সংখ্যক যাত্রী চলাচল করে, সে জন্য অন্তত ২০-২৫টি শৌচাগার থাকা প্রয়োজন। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভাষ্য- প্লাটফর্মের আশপাশে পুরো লাইন মলমূত্রে ভরে যায়।

 

স্টেশনের ভেতরের যাত্রীরা মালামাল কিংবা সঙ্গীয় যাত্রীদের রেখে স্টেশনের বাইরে গিয়ে গণশৌচাগার ব্যবহার করতে উৎসাহী হয় না। তাছাড়া বাইরের শৌচাগার একবার ব্যবহার করতে গেলে ৫-১০ টাকা করে পরিশোধ করতে হয়।

 

ভেতরকার শৌচাগারের সামনে দায়িত্বরত এক রেলওয়ে স্টাফ জানান, কর্তৃপক্ষ তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন, কোনো অবস্থায়ই যেন সাধারণ যাত্রীদের এ শৌচাগার ব্যবহার করতে না দেয়া হয়। তাই তারা দিতে পারে না।

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক সময় শিশু ও বৃদ্ধরা শৌচাগারের সামনে প্রস্রাব-পায়খানা করে ফেলে। নিরুপায় হয়ে তাদেরকেই তা পরিষ্কার করতে হয়। এসি-কেবিনে ভ্রমণকারী ভিআইপিদের জন্য বড় আকারের শৌচাগারে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ৬টি কমোডসহ ১২টি প্রকোষ্ঠ রয়েছে।

কার্টেসি : যুগান্তর

Facebook Comments