খুলনার পাইকগাছায় স্ত্রী-পুত্রকে জবাই করে হত্যা ॥ ঘাতক স্বামী দিপক আটক

Murder222
পাইকগাছায় স্বামীর হাতে নিহত স্ত্রী অনিমা দাশ (৩২) পুত্র সজীব দাশ (৮) বেঁচে যাওয়া একমাত্র কন্যা প্রিয়াংকা দাশ (১৪) এবং হত্যাকারী দিপক দাশ (৪২) ও ইনসেটে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একমাত্র দা।

আওলাদ হোসেন, পাইকগাছা সংবাদদাতা : : খুলনার পাইকগাছায় ঘুমন্ত স্ত্রী ও পুত্রকে নির্মম ভাবে জবাই করে হত্যা করে নিজে বিষপানে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে দিপক দাশ (৪২) নামের এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিবাগত রাত্র ১ টার দিকে। থানা পুলিশ চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে হত্যাকারী দিপককে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরত হাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, পাইকগাছা উপজেলার দক্ষিণ শলুয়া গ্রামের মৃত: সন্তোষ দাশের পুত্র দিপক দাশ (৪২) সোমবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত স্ত্রী অনিমা দাশ (৩২) ও তার একমাত্র পুত্র সজীব দাশ (৮) কে ধারালো দা দিয়ে নির্মম ভাবে জবাই করে হত্যা করে নিজেও কীট নাশক পান করে। এসময় বাইরে শব্দ শুনে বাড়ির দ্বিতীয় তলার ঘুমন্ত দিপকের কন্যা প্রিয়াঙ্কা (১৪) নিচে নেমে আসলে সে দৌড়ে বাড়ির সামনের একটি পুকুরে লাফ দেয়। এসময় প্রিয়াঙ্কার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে দিপককে উদ্ধার করে। তখন দিপক জানায়, সে তার স্ত্রী ও পুত্রকে হত্যা করেছে। এসময় তারা ঘরে গিয়ে খাটের উপর লাশ দেখতে পায়। দিপককে প্রথমে স্থানীয় কপিলমুনি ও পরে পাইকগাছা হাসপাতালে নেয়া হয়। খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক ভাবে সে পুলিশের কাছে স্ত্রী ও পুত্রকে জবাই করার কথা স্বীকার করেছে। তবে ঠিক কি কারণে জবাই করেছে তা জানায়নি।দিপকের একমাত্র কন্যা স্থানীয় হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা দাশ জানায়, সে তার ঠাম্মা (দাদী) জোৎ¯œা রানী দাশ এর সাথে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ঘুমায়। ঘটনার সময় তার বাবা তাদেরকেও জবাই করতে উপরে উঠে তবে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ও বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় উপরে চালের (ছাউনী) টিন খোলার চেষ্টা করলে তারা জেগে উঠে। তবে কি কারণে হত্যা করেছে তা সে নিজেও জানেনা। নিহত অনিমা দাশ তালা থানার ঘোষনগর গ্রামের মৃত নিরাপদ দাশের কন্যা। প্রায় ১৬ বছর পূর্বে দিপকের সাথে তার বিয়ে হয়। অনিমার ভাই মিঠু দাশ জানায়, তাদের দা¤পত্য জীবন সুখময় ছিল। আকস্মিক তার দিদি ও ভাগ্নেকে হত্যার ঘটনায় তারাও হতভম্ব। তবে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল দিপকের ভাই গোপালের স্ত্রী মিতা রানী দাশ। তিনি পাশের ঘরে এতবড় ঘটনা ঘটে গেলেও কিছুই জানেন না বলে জানান। তার ভাই গোপাল ওই সময় পাশের গ্রামে ধর্মীয় যজ্ঞ শুনতে গিয়েছিলেন বলে জানান। সর্বশেষ খবর পেয়ে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিউল্লা পাইকগাছা থানার ওসি (তদন্ত) কাজী কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরোত হাল রিপোর্ট শেষে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। থানার ওসি এম মসিউর রহমান মোবাইলে জানান, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হত্যাকারী দিপক কে আটক করা হয়েছে এবং প্রাথমিক ভাবে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

Facebook Comments