তরিকুলের জীবনাবসান

নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উঠে আসা দাপুটে রাজনীতিক তরিকুল ইসলাম মারা গেছেন। ৭২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরেই কিডিনী, ডায়াবেটিকসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

রবিবার বিকালে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রয়াত নেতার এক অনুসারীর বরাত দিয়ে।

বিএনপি নেতার মৃত্যুর খবরে তার দল ও অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালে শেষবারের মতো তাকে দেখতে যান তারা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও তরিকুলের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।

তরিকুল স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। তার স্ত্রী নার্গিস ইসলাম শিক্ষকতা করেছেন যশোর সরকারি কলেজে। তার ছেলে অনিন্দ ইসলাম অনিদ বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে থেকেই অসুস্থতার কারণে রাজনীতিতে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে যান তরিকুল। গত ফেব্রুয়ারিতে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শেষবারের মতো অংশ নেন তিনি।

রোগাক্রান্ত এই নেতা জীবন সায়াহ্নে এসে নাশকতার একাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন। হুইল চেয়ারে করে আদালত থেকে জামিনও নিতে হয়েছে তাকে।

যাশোর থেকে চার বার নির্বাচনে জিতে সংসদে যাওয়া তরিকুল চারদলীয় জোট সরকারের তথ্য এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সময় খালেদা জিয়ার সরকারে প্রথমে সমাজকল্যাণ এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হন প্রয়াত বিএনপি নেতা।

তরিকুলের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোরে। তার বাবা আব্দুল আজিজ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাম রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তরিকুলের। তবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

তরিকুল যশোর থেকে প্রকাশিত লোকসমাজ সংবাদপত্রের প্রকাশক ছিলেন।

Facebook Comments