শ্রমিক কর্মবিরতিতে বিপাকে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : সড়ক পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে বিপাকে পড়েছেন তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থীরা। পরিবহন ধর্মঘটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যেতে পারছেন না ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি হচ্ছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)।

রবিবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ২৬ ও ২৭ অক্টোবর নোবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আজ রবিবারও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পরীক্ষা রয়েছে। আবার ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮, ২৯ ও ৩০ অক্টোবরও সেখানে পরীক্ষা রয়েছে।

এছাড়া ২৮ ও ২৯ অক্টোবর এবং ২ ও ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে যাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে, তারা বেকায়দায় পড়েছেন। রবিবার সকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় শনিবার রাতের মধ্যেই চট্টগ্রাম যেতে হয়েছে অনেককে।

নোয়াখালীর সোনাপুর, মাইজদী ও চৌমুহনীর বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি কাউন্টারেই শিক্ষার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। টিকিটের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পরও টিকিট পাচ্ছেন না অনেকেই। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর চট্টগ্রাম যাত্রা এখনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় কিছু অসাধু পরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টিকিটের দাম বৃদ্ধি করে আদায় করছে বাড়তি টাকা। নোয়াখালীর সোনাপুর ও মাইজদীর কাউন্টারগুলোতে টিকিটের দাম নাম না বাড়লেও চৌমুহনীর কাউন্টারগুলোতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা।

২০০টাকার টিকিটের দাম নেওয়া হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০টাকা।
ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও এখনো চট্টগ্রামের টিকিট পাইনি। বুঝতে পারছি না কীভাবে যাব। আর কখন পরীক্ষায় অংশ নেব। বিপুল সংখ্যক ভর্তিচ্ছুদের কথা চিন্তা করে প্রশাসনের এ ব্যাপারে নজর দেওয়া উচিত।’

এদিকে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির মধ্যেও ভর্তি চলবে বলে নিশ্চিত করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব বাস আছে। তাছাড়াও ভর্তি পরীক্ষার জন্য এমপি একরামুল চৌধুরীর (নোয়াখালী-৪ আসন) দেওয়া বাসগুলো থাকছে । আজকের দুটি পরীক্ষারই কেন্দ্র শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে তেমন সমস্যা হবার কথা নয়।’

এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও জানিয়েছে, পরিবহন ধর্মঘট চললেও যথাসময়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে এ কর্মবিরতি চালিয়ে আসছে পরিহন শ্রমিকরা।

Facebook Comments