অথচ বল করতেই চাইছিলেন না মোস্তাফিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ডেথ ওভারে পরাজয়ের যন্ত্রণা অনেক পুড়িয়েছে বাংলাদেশকে। অনেক ম্যাচে এমনকি ফাইনাল ম্যাচ গুলোতেও তীরে এসে তরী ডুবেছিল লাল সবুজদের। কিন্তু গতকাল এশিয়া কাপের মঞ্চে ডেথ ওভার ব্যর্থতার বিপরীত গল্প জন্ম দিয়েছেন কাটার মোস্তাফিজুর রহমান। তার ডেথ ওভারের ম্যাজিকেই স্বস্তির জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অথচ পাঁচ ওভার বোলিং করার পর বল করতেই চাইছিলেন না মোস্তাফিজ। ম্যাচেরে পর মোস্তাফিজকে প্রেরণা জাগিয়ে বোলিংয়ে পাঠানোর পেছনের গল্প জানালেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

দুবাইয়ের প্রচন্ড রোদের মধ্যে টানা চার দিনে তিনটি ম্যাচ। এমন টাইট শিডিউলের মুখোমুখি কখনো হয়নি বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে মোস্তাফিজের যখন পাঁচ ওভার শেষ হয় তখন আর পেরে উঠছিলেন না মোস্তাফিজ। ডিহাইড্রেশনে ক্র্যাম্প করতে শুরু করেছে পায়ের পেশি। প্রথম স্পেলের ৩ ওভার করার পর মোস্তাফিজকে সুস্থ রাখতে কিছুক্ষণ বিশ্রামে রাখেন মাশরাফি। কিন্তু তবুও পেরে উঠতে পারছিলেন না কিছুদিন আগে চোট থেকে ফেরা মোস্তাফিজ।

পাঁচ ওভারের পর বল হাতে দৌড়াতে ক্লান্ত মোস্তাফিজের মনও মানছিল না। এর মাঝেই ক্লান্তি কাঠানোর চেষ্টা করেছেন, মাঠে নিজে নিজে স্ট্রেচিং করছেন কিন্তু তার শরীর দিচ্ছিল না। ছুটে গেলেন অধিনায়কের কাছে, জানালেন নিজের ক্লান্তির কথা।

কিন্তু অধিনায়ক তো মোস্তাফিজকে নিয়েই ডেথ ওভারের ছক করে রেখেছেন। তার মধ্যে রুবেল হোসেনও নেই। তাই মোস্তাফিজকে নিয়ে বল করাবেনই ম্যাশ।

একটি অনলাইনকে দেওয়া মাশরাফির দেওয়া ভাষ্য মতে,‘৫ ওভারের পর থেকেই মোস্তাফিজ বলছিল, ‘ভাই, আমি আর পারব না’। আমার তো মাথায় হাত! আজকে রুবেলও নেই। ম্যাচ তো জিততেই হবে, ওকে আমার লাগবেই। ওর ১০ ওভার তো হিসাব করা আমার। আমি বারবার ওকে বলেছি, পারতেই হবে। বলেছি নিজেকে পুশ করতে। চেষ্টা করেছি ছোট স্পেলে ওকে বোলিং করাতে।’

অধিনায়ক আরো বলেন, ‘ওর কাফ মাসলে টান লাগছিল। এফোর্ট দিতে পারছিল না, ইয়র্কার পারছিলই না শেষ দিকে। আমি বললাম যে, অন্তত রান আপে আস্তে আস্তে দৌড়ে গিয়ে হলেও কাটার দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে। চেষ্টা করেছি সাহস দিতে।’

অধিনায়কের সাহসেই শেষ ওভারে বল হাতে নিলেন মোস্তাফিজ। ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন আট রান। তাদের হাতে চার উইকেট। দুই দলের খেলোয়াড়দেরই তখন কপালে চিন্তার ভাজ। এমন চাপ নিয়ে বল হাতে আসলেন মোস্তাফিজ। ওভারের প্রথম বল থেকে দুই রান নেন রশীদ খান। দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ধরা পড়েন রশীদ খান। তৃতীয় বলে বাই সূত্রে এক রান নেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। চতুর্থ বলটি ডট হয়। পঞ্চম বল থেকে বাই সূত্রে এক রান নেন গুলবদিন নাইব। শেষ বলটি ডট হয়। আর তাতেই এক স্বপ্নময় জয় পায় বাংলাদেশে। বল করাতে না চাওয়া মোস্তাফিজই অধিনায়কের প্রেরণায় হাসি ফোঁটালেন গোটা বাংলাদেশের।

অবশ্য জয়ের নিজের প্রেরণাকে নয় শয়ং মোস্তাফিজকেই কৃতিত্ব দিলেন মাশরাফি। তিনি বলেন,‘ আমার কাজ তো ছিল মোস্তাফিজকে স্রেফ বলা, আসল কাজ সে করেছে। এই অবস্থার মধ্যেও যেভাবে বোলিং করেছে, ওকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতেই হবে।’

Facebook Comments