৭৭ বছরের এই বৃদ্ধ আরও কত বয়স হলে একটি ভাতার কার্ড পাবেন

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা সংবাদদাতা : গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের ছোট হরিণমাড়ী গ্রামের মৃত কপিল উদ্দিনের ছেলে রইমুদ্দি (লালু) এর স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন। তার সংসারে এক ছেলে রেজ্জাক বিয়ে করে বৌ’কে নিয়ে আলাদা হয়ে ঢাকায় থাকেন। আর এক বিধবা মেয়ে হাসিনা।
৭৭ বছর বয়সের এ বৃদ্ধের বসতবাড়ী বলতে সামান্য একটু মাথা গোজার ঠাঁই এক টুকরা জমি। আগে মানুষের জমিতে কৃষানি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। বর্তমানে বয়সের ভারে কিছু করতে না পারায় পলাশবাড়ি উপজেলা সদরের বিভিন্ন দোকানপাটে ভিক্ষা করে বিধবা মেয়ে ও তার সন্তানের খাবার জোগাড় করতে হয় তাকে। বৃদ্ধ লালুর সঙ্গে কথা হয় বুধবার পলাশবাড়ির চৌমাথায়।
সে জানায়, আমার আর এ বয়সে এসব ভালো লাগে না। পেট ভরে খেতে পারি না। কখনও অনাহারে থাকতে হয়। কি করবো পেটের ক্ষিধে তো আর মানে না। এই বয়সে একটি বিধবা মেয়ে একটি নাতি আমার উপর। এক ছেলে সে তো বৌ নিয়ে ঢাকায়। আমার খোঁজ খবর কে রাখে? যদি সরকার থেকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পেতাম, তাও কিছুটা ওষুধপাতি সহ চাল কিনে খেয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকতাম। আমাদের দিকে কেউ দেখে না? এ বয়সে সবাই বয়স্কভাতার কার্ড পায়, আমি পাই না।
তিনি প্রশ্ন করে বলেন, আরও কত বয়স হলে আমি একটি বয়স্কভাতার কার্ড পাবো? এ ব্যাপারে পলাশবাড়ি সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ইসলাম, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সু- দৃষ্টি কামনা করেছেন এ বৃদ্ধ রইমুদ্দি লালু।

Facebook Comments