সরকার চাইলে সমঝোতার উদ্যোগে রাজি : ড. ইউনূস

26-enusএকুশেরআলো২৪ডেস্ক: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন হলে দেশে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে নোবেল জয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যতই নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে, দেশে ততই  অশান্তির আশঙ্কা বাড়ছে। এটা নিরসনের জন্য সরকারকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।
সোমবার মিরপুর-২ গ্রামীণ ব্যাংকের ইউনূস সেন্টারে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড.ইউনূস এসব কথা বলেন।
ইউনূস বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে জনগণের মধ্যে শঙ্কার জন্ম নিয়েছে। জনগণের এই দুশ্চিন্তা দূর করতে হলে সরকারকে দ্রুত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দেশে বিরাট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ড.ইউনূস বলেন, বাংলার মানুষ শান্তি চায়। দেশের মানুষের শান্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব বর্তমান সরকোরের। এ জন্য সরকারকে বিরোধীদলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় এসে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এটা যত তাড়াতাড়ি করা সম্ভব, তত ভাল। নাহলে দেশে অশান্তি সৃষ্টি হলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।
ক্ষুদ্র ঋণের এই প্রবক্তা বলেন,বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক তরুণ। যাদের বয়স ২১ বছরের নিচে। তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ। দেশে অশান্তি দেখা দিলে তরুণরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের তরুণরা বহুবার প্রমাণ করেছে যে তাদের মেধা বিশ্ব মানের।তরুণরা অনিশ্চয়তার দিকে পতিত হলে, দেশের উন্নয়নও অনিশ্চয়তা পড়বে। সুতারাং খুব তাড়াতাড়ি তরুণদের শান্তির আশ্বাস দিতে হবে। তাদেরকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণরা যেন দেশের ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবে অন্যদেশে পাড়ি না জমায়। ইতোমধ্যে অনেক অভিভাবক দেশে বিশৃঙ্খলার কথা চিন্তা করে, তাদের সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। তাদেরকেও দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড.ইউনূস বলেন, আমি কারও সাথে আলোচনার জন্য যাইনা। সবাই আমার সাথে আলোচনা করতে আসে। আমার সাথে কেউ আলোচনা করতে চাইলে আমি মন খুলে তাদের সাথে আলোচনা করি। অনুরূপভাবে সরকার যদি আমার সাথে আলোচনার জন্য আসেন, আমি সরকারের সাথে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। সরকারকে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার  কথা বলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমি আন্তরিকভাবে বাংলাদেশে শান্তি চাই। আমার মত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও দেশে শান্তি চায়। সুতারাং সরকারকেও দেশের শান্তির জন্য কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বীর প্রতিক মেজর জেনারেল (অব.)সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীমসহ পার্টির অন্যান্য নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments