বিদায় উইন্ডোজ এক্সপি

windowsxp222ওয়াশিংটন: সারাবিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ এক্সপি’র দিন শেষ হতে চলেছে। উইন্ডোজ এক্সপি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট করপোরেশন সম্প্রতি এই ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল থেকে গ্রাহকদের এই অপারেটিং সিস্টেম সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দান বন্ধ করে দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ্য, বর্তমান বাজারে মাইক্রোসফটের তিনটি অপারেটিং সিস্টেম যথাক্রমে উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ৭ এবং উইন্ডোজ ৮ চালু আছে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত মাইক্রোসফটের সদরদপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আর মাত্র ত্রিশ দিন পরিসেবা দেয়া হবে। বাজারে উইন্ডোজ এক্সপি ১২ বছর ধরে চালু আছে। তবে বিগত পাঁচ বছর ধরে এই অপারেটিং সিস্টেমের কোনো হালনাগাদ দেয়া হয়নি। কারণ বাজারে ইতোমধ্যেই আমরা উইন্ডোজ ৭ ও ৮ এনেছি।

প্রায় ৪০ লাখ ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এক্সপি ব্যবহৃত হয়। যাদের প্রায় ৮৪ শতাংশই বিগত সময়ের মধ্যে উইন্ডোজ ৭’ এ চলে এসেছে। বাকি ১৬ শতাংশ কম্পিউটারের জন্য কোনো আপডেটের পরিকল্পনা নেয়া হবে না। বিশেষত ব্যাংকিং খাতে এক্সপি ব্যবহৃত হয় বেশি। তাই সময় থাকতে ব্যাংকিং খাতকে এক্সপি থেকে সরে এসে উইন্ডোজ ৭ অথবা ৮ এ চলে আসার জন্য মাইক্রোসফট করপোরেশন থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিলিটারি কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ মিচেল মেনর তার ব্যাক্তিগত ব্লগ পোস্টে জানান, ‘হ্যাকাররা দশ মিনিট কষ্ট করলেই উইন্ডোজ এক্সপির নিরাপত্তা ভাঙতে পারে। এটা অবশ্যই ইন্টারনেটের নিরাপত্তার জন্য একটা ঝুঁকি। তবে মাইক্রোসফট করপোরেশন যদি সত্যিই তাদের এক্সপির দিন শেষ ঘোষণা করে তাহলে যেসব কম্পিউটারে এক্সপি ব্যবহৃত হবে সেগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬৫ হাজার ব্যাংক শাখার সাত লাখ কম্পিউটারে উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করা হয়। ২০০১ সালে যখন এক্সপি প্রথম বাজারে আসে তখনো এর সম্পূর্ণ আপডেট করা হয়নি। কয়েক বছর ধরে এই অপারেটিং সিস্টেমটির আপডেট করা হয়। যেমনটা উইন্ডোজ ভিস্তা ২০০৬ সালে বের করা হয়। তবে উইন্ডোজের এই পরিবর্তনের ফলে মূলত পরিবর্তন আসে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের। কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের তাদের কনফিগারেশন আপডেট করতে বাধ্য হয়।

এক্সপির বর্তমান ভার্সনটি মূলত তৃতীয় প্রজন্মের, যাকে বলা হয় উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ৩। এটি ২০০৮ সালে বাজারে আনে মাইক্রোসফট করপোরেশন।

Facebook Comments