ঢাকা উত্তরের তরুণ তুর্কি “তারেকুজ্জামান রাজীব”

ইমতিয়াজ আহমেদ মিতুল: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৯২ টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবথেকে তরুণ কাউন্সিলর তিনি। ঢাকা উত্তরের ৩৩নং ওয়ার্ডের হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। মোহাম্মাদপুরবাসী যাকে ভালবেসে ডাকেন জনতার কমিশনার বলে।
হ্যাঁ আমি আর কারো কথা বলছিনা, বলছি “তারেকুজ্জামান রাজীব” এর কথা। এমন একজন নেতাই খুঁজছে বাংলাদেশবাসী।
রাজীব ছাত্র রাজনীতি থেকেই আজ এই পর্যায়ে এসেছেন। বর্তমানে তিনি জনপ্রতিনিধি হয়ে হাল ধরেছেন মোহাম্মাদপুরের বসিলা, ওয়াশপুর, কাটাশুর, শারীরিক শিক্ষা কলেজ, গ্রাফিক্স আর্টস, মোহাম্মাদীয়া হাউজিং সোসাইটি এবং বাঁশবাড়ি এলাকার। ২০১৫ সালের নির্বাচনে মোহাম্মাদপুরের ও মহানগর উত্তরের আওামীলীগের সিনিয়র নেতা শেখ বজলুর রহমানকে ৩০০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এই অঞ্চলের হাল ধরেন তিনি।
বিপরীত জনপ্রতিনিধির কুচক্রের ফাঁদে পা না দিয়ে নিজের কর্মদক্ষতা ও মেধা শক্তি দিয়ে সে এগিয়ে চলেছে জনগণের সেবার কাজে। জনপ্রতিনিধি হবার পর তিনি প্রথম কাজ হিসাবে বেছে নেন মোহাম্মাদপুরের নালা ও ডোবা নিষ্কাশনের কাজ। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন এলাকাবাসী ও মোহাম্মাদপুর থানা যুবলীগের অন্যান্য নেতা কর্মীগণ।

মানুষের জন্য ভালো কাজ করলে তার জন্য মানুষ দোয়া করে। তার দীর্ঘায়ু কামনা করে। রাজীবের জন্য মানুষ সব সময় এটা করে থাকে। কারণ তিনি মানুষের জন্যই কাজ করে থাকেন। এলাকার কছে তিনি মোহাম্মাদপুরবাসীর গর্বিত সন্তান। এলাকাবাসী তাকে এভাবেই ভালবাসেন।

আমরা জানি বাঁশবাড়ি এলাকার রাস্তার বেহাল দশা আজ। শিয়া মসজিদ থেকে মোহাম্মাদপুর বাস স্টান্ড পর্যন্ত রাস্তায় প্রায় সময় পানি কাদা থাকে। এতে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। এ নিয়ে রাজীবকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাবে বলেন, “ আমি এ বিষয়ে অনেকবার উপর মহলে কথা বলেছি এবং টেন্ডার পাশ করিয়েছি। খুব শিঘ্রই এই রাস্তার কাজ শুরু করা হবে”।

কাউন্সিলর রাজীব এলাকার তরুণদের কাছে এক আবেগময়ী নাম। তিনি কখনও ছুটে যান গরীব-দুঃখী মানুষের দ্বারে, কখনও ছুটে যান বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করা মানুষের সাথে কাজ করতে। কখনও বা তিনি তুখোড় নেতা হয়ে কাঁপিয়ে বেড়ান রাজপথ। তার কাছে কোন দুঃখী মানুষ বিচার নিয়ে আসলে তিনি কখনও তাদের খালি হাতে ফেরাননা।

বংশগত ভাবে অর্থবিত্ত থাকার পরও তিনি সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যান খুব সহজেই। রাজীব বলেন, “আমি স্বপ্ন দেখি, ৩৩ নং ওয়ার্ড হবে একান্নবর্তী পরিবারের মতো। যেখানে কোন ধর্ম বর্ণের ভেদাভেদ থাকবেনা। সবাই এক সাথে মিলেমিশে বাস করবে। আমি জনগনণের জন্য কাজ করে যেতে চাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে নিয়ে সন্ত্রাসমুক্ত ও জঙ্গিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই”।
ইদানিং কালে সব জায়গায় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করছে সবাই। কিন্তু রাজীবের এলাকায় তিনি তা হতে দেন না। তিনি নিজে কাজের জায়গায় গিয়ে তদারকি করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার এলাকায় সব কাজ আমি নিজে গিয়ে তদারকি করি। দিনে অন্ততঃপক্ষে ২বার যাওয়ার চেষ্টা করি সব জায়গায়। আমার এখানে কারচুপির কোন জায়গা নেই”।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাজীব নানা উন্নয়ন মূলক কাজ করে চলেছেন এলাকার। তার মধ্যে অন্যতম হলো, মোহাম্মাদপুরের শিয়া মসজিদ সংলগ্ন চৌরাস্তায় আল্লাহর ৯৯ টি নাম দিয়ে তৈরী করা কাচের স্তম্ভ। যেটার মূল পরিকল্পনাকারী তিনি নিজেই। স্তম্ভটির নাম ‘দ্যা গ্লোরি অব নামিরা’।

রাতের বেলা অপরুপ সৌন্দর্যে পথের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্তম্ভটি। রাজীব বলেন, ‘মোহাম্মাদপুর ঐতিহ্যগত ভাবেই একটি মুসলিম নাম। তাই আমি এখানেই স্তম্ভটি স্থাপন করেছি। তাছাড়া আমি যখন ওমরাহ করতে গিয়েছিলাম, সেখানে বিভিন্ন ইসলামিক স্তম্ভ দেখে আমার এই ইচ্ছাটি হয়, যদি আমার মোহাম্মাদপুরে একটি স্তম্ভ হয় তাহলে মানুষ অনেক খুশি হবেন”।
বিগত সাল গুলোতে আমরা দেখেছি কমিশনার অফিস থেকে প্রত্যয়ন পত্র নিতে গেলে টাকা দিয়ে নিতে হত। এবং কাগজ গুলোও উন্নত মানের ছিল না। কিন্তু রাজীব নিজ অর্থায়নে উন্নত মানের কাগজ দিয়ে তৈরী করেছেন এই প্রত্যয়ন পত্র।

তিনি বলেন, “আমি নিজে ৫০০ টাকা দিয়ে প্রত্যয়ন পত্র নিয়েছি ছোট বেলায়। সেটার কাগজও ছিল খুব নিম্ন মানের। তাই আমি নিজে এই সুন্দর নকশা করে প্রত্যয়ন পত্র তৈরী করেছি”।
কমিশনার হবার পর থেকে বিভিন্ন কাজের জন্য অসংখ্য পদক পেয়েছেন এই তরুণ নেতা। তার কার্যালয় ঘুরে আসলেই বোঝা যায় তার কৃতিত্ব সম্পর্কে।

তার কার্যালয়ে তার পিছন ঘিরে টেবিলের উপর ভর্তি তার কৃতকার্যের সম্মাননা। তার এই কাজের জন্যই মোহাম্মাদপুরবাসি তাকে ডাকেন জনতার কমিশনার বলে।
তার দেশের বাড়ি ভোলায়। কিন্তু তিনি ছোট বেলা থেকে বড় হয়েছেন মোহাম্মাদপুরে। তিনি ছোট বাচ্চাদেরকে খুব ভালবাসেন। আদর করতে খুব পছন্দ করেন। খুব সহজেই মিশে যান ছোট বাচ্চাদের সাথে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক।

বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার খুব ঘনিষ্ট ব্যাক্তিত্ব তারেকুজ্জামান রাজীব। তিনি কঠোর পরিশ্রমীও। তার মতো নেতাকে মোহাম্মাদপুরবাসি বার বার কমিশনার হিসাবে দেখতে চায়। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়া এই ৩৩ নং ওয়ার্ড। তাকে দেখলেই একটি কথা বার বার বলতে ইচ্ছা করে, “বঙ্গবন্ধু মরে নাই, বেঁচে আছে মানুষের হৃদয়ে, বেঁচে আছে রাজীবের মাঝে”।

Facebook Comments