বিএনপি-৩৩, আ’লীগ-২২ ও অন্যান্য-১৩টিতে বিজয়ী

vote gonaঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি:  চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ৯৭টি উপজেলায় বুধবার ভোটগ্রহণ শেষে চলছে ভোট গণনা। সর্বশেষ ফলাফলে ৬৮টি উপজেলার মধ্যে বেসরকারিভাবে ৩৩টিতে বিএনপি, ২২টিতে আওয়ামী লীগ ও ১৩টিতে (অন্যান্য) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
বিজয়ীরা হলেন

ঢাকা বিভাগ : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ফরিদুল কবির তালুকদার (বিএনপি), কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সারওয়ার আলম (আ.লীগ), নিকলীতে বদরুল হোসেন মিঠু (বিএনপি), করিমগঞ্জে সাইফুল ইসলাম (বিএনপি), শরিয়তপুরের ভেদেরগঞ্জে আলহাজ আনোয়ার হোসেন (বিএনপি), জাজিরায় মোবারক আলী শিকদার (আ.লীগ), ডামুড্যায় আলমগীর হোসেন মাঝি (আ.লীগ), গোসাইয়ের হাটে সৈয়দ নাসির উদ্দিন (আ.লীগ), মাদারীপুরের কালকিনিতে তফিজুল ইসলাম শাহীন (আ.লীগ), মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে তোজাম্মেল তোজা (বিএনপি), শিবালয়ে আলী আকবর (বিএনপি)।

চট্টগ্রাম বিভাগ : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নূরুল আমিন (বিএনপি), খাগড়াছড়ির রামগড়ে শহীদুল ইসলাম ভুঞা (বিএনপি), মানিকছড়িতে ম্যাগা মারমা (আ.লীগ), খাগড়াছড়ি সদর সুঞ্চামনি চাকমা (অন্যান্য)।

সিলেট বিভাগ : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আব্দুল বাছির (আ.লীগ), জৈন্তাপুরে জয়নাল আবেদীন (জামায়াত), গোয়াইনঘাটে আব্দুল হাকিম (বিএনপি), বিশ্বনাথে সোহেল আহমদ (বিএনপি) ও জকিগঞ্জে ইকবাল আহমদ (বিএনপি)।

সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জের হাজী আবুল কালাম (আ.লীগ), হবিগঞ্জের মাধবপুরে শাহজাহান (বিএনপি), বাহুবলে আ. হাই (আ.লীগ)।

খুলনা বিভাগ : খুলনার কয়রায় তমিজউদ্দিন (জামায়াত), দিগলিয়ায় নজরুল ইসলাম খান (আ.লীগ), কুষ্টিয়া সদরে জাকির হোসেন সরকার (বিএনপি), ভেড়ামারায় তৌহিদুল ইসলাম ওরফে আলম মালিথা (বিএনপি), যশোরের অভয়নগরে রবিন অধিকার (আ.লীগ)।

রাজশাহী বিভাগ : পাবনার আটঘড়িয়ায় মো. জহুরুল ইসলাম খান (জামায়াত), সুজানগরে আবুল কাশেম (আ.লীগ), রাজশাহীর মোহনপুরে আব্দুস সামাদ (বিএনপি), চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় আব্দুল কাদের (আ.লীগ) ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় আব্দুল গনি (জামায়াত)।

বরিশাল বিভাগ : ভোলার লালমোহনে গিয়াসউদ্দিন আহমেদ (আ.লীগ)।

রংপুর : পঞ্চগড় সদরে আনোয়ার সাদাত (আ.লীগ), দিনাজপুরের খানসামায় শহীদুজ্জামান শাহ (বিএনপি), কাহারোলে মামুনুর রশিদ চৌধুরী (বিএনপি), কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে মো. নুরুন্নবী চৌধুরী (আ.লীগ), রংপুরের মিঠাপুকুরে গোলাম রব্বানী (জামায়াত), তারাগঞ্জে শামসুল কাদের (আ.লীগ) ও নীলফামারীর জলঢাকায় আলহাজ সৈয়দ আলী (জামায়াত)।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

সিলেট : সিলেটের প্রথম দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬ উপজেলার ৫টির ফলাফল পাওয়া গেছে। কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল বাছির, জৈন্তাপুরে জামায়াত সমর্থিত জয়নাল আবেদীন, গোয়াইনঘাটে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল হাকিম, বিশ্বনাথে সোহেল আহমদ ও জকিগঞ্জে ইকবাল আহমদ চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন।

এছাড়া প্রাপ্ত ফলাফলে গোলাপগঞ্জে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হাফিজ নাজমুল ইসলাম চৌধুরী এগিয়ে রয়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৩৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সব কয়টির ফলাফল পাওয়া গেছে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুর বাছির। তিনি (আনারস) পেয়েছেন ২৫,৪৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম (ঘোড়া) পেয়েছেন ১৯৬০০ ভোট।

গোয়াইনঘাটে ৫১টি কেন্দ্রে সবকটির ফলাফলে প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির আব্দুল হাকিম। তিনি ৪৩ হাজার ৮০৯ হাজার ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের লুৎফুর রহমান লেবু ৩৩ হাজার ৫২৭ ভোট পেয়েছেন।

জৈন্তাপুরে চেয়ারম্যান পদে এ উপজেলায় বিজয়ী হয়েছেন ১৯ দল সমর্থিত প্রার্থী জামায়াতের জয়নাল আবেদিন। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২২হাজার ৫৫৬ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল আহমদ। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১৯হাজার ৯৮ ভোট।

জকিগঞ্জে বিএনপি’র ইকবাল আহমদ বিজয়ী হয়েছেন। ৭৬টি কেন্দ্রে ইকবাল আহমদ ২৭ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়েছেন। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের লোকমান উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ২৩ হাজার ২৭২ ভোট।

বিশ্বনাথে বিএনপি সমর্থিত সোহলে আহমদ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৩২৯৭৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত পংকি খান ২৬৩০১ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়া গোলাপগঞ্জে আওয়ামীলীগ প্রার্থী এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী নাজমুল ইসলামের মধ্যে যেকেউ বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার ৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৫টির ফলাফল পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন জামায়াতের হাফিজ নাজমুল ইসলাম। তিনি মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৫২৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ইকবাল আহমদ চৌধুরী (দোয়াত কলম) পেয়েছেন ৮৩২৪ ভোট।

হবিগঞ্জ : মাধবপুর উপজেলার ৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রাপ্ত ৩৫টি কেন্দ্রে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শাহজাহান (আনারস) ৭৪ হাজার ৪৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে।

তার নিকটতম আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোঃ জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম (দোয়াত কলম) পেয়েছেন ৩৫ হাজার ২৭৫ ভোট।

এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৫ জন ভোটার অধ্যুষিত এ উপজেলায় পুরুষ ৯২ হাজার ৬৫৯ এবং মহিলা ভোটার আছেন ৯৪ হাজার ৫৯৬ জন।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৭টি ভোট কেন্দ্রেরই বেসরকারী ফলাফলে ঘোষিত হয়েছে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সরকার আনারস প্রতীকে ১ লক্ষ ৬ হাজার ২শ ৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদন্ধী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক এ এফ এম আমিনুল হক মোটর সাইকেল প্রতীকে ৬৩ হাজার ৩০০ ভোট পেয়েছেন।

অপরদিকে ভেড়ামারা উপজেলার ৪৮টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলো ভোট কেন্দ্রের বেসরকারী ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ওরফে আলম মালিথা দোয়াত-কলম প্রতীকে ৩৮ হাজার ২শ ৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদন্দী ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দীক আনারস প্রতীকে ২৫ হাজার ৮শ ২৬ ভোট পেয়েছেন। জেলা রিটার্নিং অফিসার মুজিব-উল-ফেরদৌস এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

মাদারীপুর : বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীন বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোগগ্রহণ শেষ হয়।

এতে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তৌফিকুজ্জামান শাহীন বেপারী ৬৪ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী কর্ণেল (অব) বজলুর করিম সেলিম ২১ হাজার ৮৮ ভোট পেয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাজী মাহমুদুল হাসান দোদুল  ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাজী নাসরীন এগিয়ে রয়েছে।

এদিকে বেলা আড়াইটার দিকে দক্ষিণ জনারদন্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে জাল ভোটের সহায়তায় করায় সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে শাহীন হোসেন নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল হাই’র প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি।

শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের ৪ উপজেলায় বিএনপির ১ জন ও আওয়ামী লীগের ৩ প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোবারক আলী শিকদার মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪২ হাজার ৭২০ ভোট এবং তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত নুরুল ইসলাম আল আজাদ কাপ পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ২৩৯ ভোট।

ডামুড্যা উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর হোসেন মাঝি আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২১ হাজার ১১৭ ভোট এবং তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির ফজলুল করিম মিয়া ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬৮ ভোট।

ভেদরগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি প্রার্থী আনোয়ান হোসেন মাঝি দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৪২ হাজার ৪১৫ ভোট এবং তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের আলতাফ হোসেন আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৩৪ ভোট।

এদিকে গোসাইরহাট উপজেলায় বিএনপি প্রার্থী বুধবার দুপুর বেলা ১২টায় অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বয়কট করার পর আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দ নাসির উদ্দিন আনারস প্রতীকে ৪৪ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন বয়কট করার পরও বিএনপির সাহেদ পারভেজ আব্বাস ১২ হাজার ৩৩০ ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সাংসদ নাহিম রাজ্জাক বিজয়ীদের অভিন্দন জানিয়েছে।

এদিকে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সাসির উদ্দিন কালু আনোয়ার মাঝিকে অভিন্দন জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটাররা তাদের পছন্দের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন। ৯৭টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ৪০টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। ৯৭টি উপজেলার মধ্যে ৫৪টিতে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী ছিলেন।

 

Facebook Comments