নির্বাচনে জনগণের নিরাপত্তা দিতে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী: প্রচার-প্রচারণা বন্ধ আজ মধ্যরাতে

7.11.nicঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি: ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফার ৯৭টি উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এ নির্বাচনে জনগণের নিরাপত্তা দিতে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী।

এদিকে আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে সকল ধরনের প্রচার-প্রচারা শেষ হচ্ছে। কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। এতে তাদের অর্থদ-সহ তাদের প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।
এদিকে সোমবার সকাল থেকে প্রথম দফার উপজেলাগুলোতে তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের মাঠে নামানো হয়েছে।
জানা যায়, রবিবার বিকালে এবং রাতেই নির্বাচনী এলাকাগুলোতে পৌঁছেছে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নেমেছে তারা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগের ২ দিন এবং নির্বাচনের পরের ২ দিন ও নির্বাচনের দিনসহ মোট ৫ দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। সে অনুযায়ী সোমবার থেকে সেনাবাহিনীসহ র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার এবং পুলিশ সদস্যদের প্রথম দফার উপজেলাগুলোতে মাঠে নেমেছে।
তফসিল অনুযায়ী ১০২টি উপজেলায় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সীমানা জটিলতার কারণে ৫টি উপজেলায় এদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় ৪০টি জেলার ৯৭টি উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণা আজ সোমবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। রাত ১২টার পর প্রার্থীরা কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবেন না। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচলও বন্ধ থাকবে। কেউ এ বিধিনিষেধ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে নির্বাচনী এলাকায় নিয়োজিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। এতে তাদের অর্থদ-সহ তাদের প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।
৯৭টি উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কেন্দ্রের তথ্য পায়নি নির্বাচন কমিশন। এমনটিই দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহ নেওয়াজ। তিনি বলেন, গোয়েন্দাদের কাছ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কেন্দ্রের তথ্য পায়নি।
গত ১৯ জানুযারি প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২৫ জানুয়ারি, বাছাই শেষ হয় ২৭ জানুয়ারি এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ৩ ফেব্রুয়ারি।
এসব উপজেলা নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী জেলা প্রশাসক (এডিসি) এবং সহাকারী রিটার্নিং অফিসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
প্রথম দফার উপজেলা নির্বাচনে ১ হাজার ৭৩২ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ২৭৪ প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪৩২, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫১৩ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে ৪ দফায় ৩৯৪টি উপজেলায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এগুলোর মধ্যে প্রথম দফায় ৯৭টি উজেলায় ভোটগ্রহণ ১৯ ফেব্রুয়ারি, দ্বিতীয় দফার ১১৭টি উপজেলা ভোটগ্রহণ হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় দফার ৮৩টি উপজেলার ভোটগ্রহণ হবে ১৫ মার্চ এবং চতুর্থ দফার ৯২টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ মার্চ।

Facebook Comments