জামালগঞ্জে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর অনিয়মে ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ-২

জামালগঞ্জ(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় তালিকাভুক্ত  ৮৩ জনের মধ্যে খাদ্য শশ্য বিতরনে অনিয়মে ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ। জানা যায়,হেলেনা বেগম বাদী হয়ে,জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে জানা যায়,জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সংবাদপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষকের স্ত্রী হেলেনা বেগম।  পরিবারে আর্থিক অসচ্ছলতা থাকায়,পরিবারে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের ভরণ পোষণ ঠিক মত না চলায়,সরকার কর্তৃক খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করেন। এলাকার খাদ্য বান্ধবে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ডিলার সংবাদপুর গ্রামের ফজুর রহমান ভুঁইয়া’র ছেলে,সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, । হেলেনা বেগমকে ১ম মাসের  চাউল না দিয়ে ২য় মাসে চাউল নিতে আসলে ২মাসের টিপসই নিয়ে নেয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে, সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া রাগান্বিত হইয়া কার্ড বাতিল করে অন্যকে দিয়ে দিবে  বলে হুমকী দেয়। লিখিত অভিযোগে আরও জানা যায়,গত ১৬ই এপ্রিলের নির্বাচনে অংশ গ্রহনকারী জামির হোসেন কে টিউবয়েল প্রতিকে সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ’র যোগ সাজসে খাদ্য শশ্য বিতরনের সময় ভোট দেওয়ার কথা বলে। এখনও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর অনেক কার্ড,অনেকেই পায়নি। যা তার নিয়ন্ত্রনে গোপন রেখেছে। এই অভিযোগের উপর ভিত্তি করে আবারও ১২ই এপ্রিল রেজাউল করিম বাদী হয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ৬জনকে বিবাদী করে আর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জামালগঞ্জ থানায় প্রেরন করেন। সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়ার পেশী শক্তির ভয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকায় কেউই কথা বলতে সাহস পায় না। নির্বাহী অফিসার অভিযোগটি এলএসডি কর্মকর্তা অসতি কুমার তালুকদারকে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার দায়িত্ব প্রদান করেন। এল এসডি বিষয়টি তদন্ত করতে গেলে সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া’র বাড়ীতে লোকজন জড় হয় এবং তদন্তের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে থাকে। তদন্ত চলা কালীন সময়ে,কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলতে থাকলে,প্রতিবাদ করায় সফিকুল ইসলামের হুকুমে, নবী হোসেন  রেজাউল করিমকে গলাধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে ও পিটিয়ে শরীরে রক্তাত্ব,ফোলা যখম করে। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় গুরুতর আহত রেজাউল করিমকে জামালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। তদন্তকারী অফিসার এ এসআই উছমান বলেন,আগামী ২রা মে উভয় পক্ষকে থানার আসার কথা বলেছি বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।
এ ব্যপারে অসিত কুমার তালুকদার ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন,তদন্ত চলছে। তবে বাদী বিবাদীকে নোটিশ দিয়েছিলাম বাদী আসে নাই তদন্ত চলছে। বাদীকে নোটিশ পেয়ে না আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে,তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন,আমি যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি,সে এসে আমাকে নোটিশ দেওয়ায়, বিবাদী খারাপ লোক, আবার কোন কিছুনি কইরালায়, ভয়ে যাই নাই।

Facebook Comments