বাংলাদেশিকে নির্যাতনে ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দিল বিএসএফ

bsfরাজশাহী, ১১ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশি নাগরিককে নগ্ন করে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনায় ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বিএসএফ। মঙ্গলবার রাজশাহীর খানপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ চেক হস্তান্তর করে।

বিএসএফের ১৩০ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্টের প্রস্তাব অনুযায়ী বেলা সাড়ে ১১টায় ৩৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের খানপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা ১৬৩ ও ১৬৩/১ সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে বাংলাদেশের ভেতরে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ৩৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজিম খানসহ বিজিবির কর্মকর্তা, স্থানীয় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে হাবিবুর রহমানের হাতে ৫০ হাজার রুপি তুলে দেন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট শ্রী রাজ কুমার।
তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।ক্ষতিপুরন প্রাপ্ত ওই বাংলাদেশির নাম হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু (২২)।

তাঁর বাবার নাম সাইদুর রহমান। তাঁর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সাতরসিয়া গ্রামে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজশাহীর খানপুর বিওপি এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমানার ভেতরে প্রবেশ করলে ১০৫ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন চরমুর্শি বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দল হাবিবুর রহমানকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে পেটায়।
পরের দিন তাঁকে নগ্ন করে হাত-পা বেঁধে লাঠি ও বাঁশ দিয়ে আবার নির্মমভাবে পেটায়। ওই দিন দুপুরে তাঁকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সীমান্তের শূন্য রেখার কাছে ফেলে রাখা হয়।
স্থানীয় জনগণ তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় বিএসএফের এক জওয়ান মুঠোফোনে নগ্ন অবস্থায় নির্যাতনের ছবি ধারণ করেছিল। ২০১২ সালের ১৮ জানুয়ারি ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেলে তা প্রচারিত হয়। এর পর বিষয়টি বিজিবির নজরে আসে। তারা ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। বিএসএফ ঘটনার দায় স্বীকার করে দোষী সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়। ওই বছর ১৯ জানুয়ারি তা দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় আদালত বিষয়টি নিজ থেকে বিবেচনায় নিলে জাতীয় মানবাধিকার কাউন্সিল নির্যাতিত হাবিবুর রহমানকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ হাজার ভারতীয় মুদ্রা দেওয়ার সুপারিশ করে।

Facebook Comments