আচমকা আঘাতই ট্রাম্পের পছন্দ

ঘোষণা দিয়ে নয়, উত্তর কোরিয়ায় আচমকা আঘাত হানার কথা ভাবছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে এমনটি জানিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল ম্যাকমাস্টার।

গতকাল দুই কোরিয়াকে বিভক্তকারী অসামরিকীকরণ অঞ্চল (ডিএমজেড) পরিদর্শন করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দিতে এসো না। উত্তর কোরিয়ার প্রতি সহনশীলতা দেখানোর দিন শেষ।

চীনের প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়া, তাই ট্রাম্প চাইছে কিম জং উনের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে আগে পদক্ষেপ চীনের পক্ষ থেকে হোক। কিন্তু চীন পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাষ্ট্র যে চুপচাপ বসে থাকবে না, তেমন বার্তাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ম্যাকমাস্টারকে সেই বিষয়ে জরুরি নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন নৌসেনার প্যাসিফিক কম্যান্ড ইতিমধ্যেই কার্ল ভিনসন স্ট্রাইক গ্রুপকে উত্তর কোরিয়ার দিকে পাঠিয়ে দিয়েছে।

এদিকে কোরীয় উপদ্বীপের দিকে মার্কিন নৌবহরের যাত্রা শুরুর পর থেকেই সুর ক্রমশ চড়াতে শুরু করেছেন কিম জং উন। মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনও রকম প্ররোচনা এলেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পরমাণু হামলা চালানো হবে, এমন হুঁশিয়ারিই দিয়েছে পিয়ংইয়ং।

গোটা বিশ্বকে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে জানাতে শনিবার পিয়ংইয়ংয়ে এক বিরাট সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করেন কিম জং উন। এরপর দিন আরও এক ধাপ এগিয়ে কিম ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। উৎক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

যদিও বসে নেই কিম জং উন। উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠ পরমাণু বিস্ফোরণটিও ঘটাতে চলেছে, দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার।

এরপর ট্রাম্প নিজে কোন মন্তব্য না করলেও, ঘনিষ্ঠজনদের মারফত জানিয়েছেন, ‘উত্তর কোরিয়া আর কোনও প্ররোচনামূলক আচরণ করলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। সেই কঠোর পদক্ষেপ যে আচমকা হামলা, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।’

সম্প্রতি সিরিয়াতেও আচমকাই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রেও তেমন পদক্ষেপ হতে পারে, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র দপ্তর আকারে-ইঙ্গিতে সেই বার্তা দিতে শুরু করেছে।

রবিবার উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর, পিয়ংইয়ংয়ের আচরণকে ‘প্ররোচনামূলক এবং স্থিতিশীলতা ধ্বংসকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল ম্যাকমাস্টার। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকমাস্টার বলেন, ‘মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দা বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে যে কোনও পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।’

উত্তর কোরিয়া রবিবার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই ম্যাকমাস্টার অত্যন্ত কড়া বিবৃতি দিয়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আচমকা আঘাত হানতেই বেশি পছন্দ করের।’

Facebook Comments