প্রতি সপ্তাহে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

আন্তর্জাতিক নিন্দা এবং ক্রমবর্ধমান মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেও কমপক্ষে প্রতি সপ্তাহে একটি করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বিবিসি-র সঙ্গে সাক্ষতকালে দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হ্যান সাং রিয়ল এই হুমকি দেন।

তিনি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থামাবে না। বরং উত্তর কোরিয়া সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎসরিক ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাবে।

পিয়ংইয়ংয়ে দেয়া সাক্ষতকারে রিয়ল আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যায়, তাহলে প্রথম দিন থেকেই তার দেশও পূর্নাঙ্গ যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। উত্তর কোরিয়া যদি বুঝতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তাহলে, তা ঠেকাতে
প্রয়োজনে নিজেরাই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পরমাণু হামলা করবে।

রিয়ল দাবি করেন, ‘উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাবে এবং সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎসরিক ভিত্তিতে এই কার্যক্রম চলতেই থাকবে।’

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দেশটির সামরিক বাহিনীর শক্তির পরীক্ষা না নিতে উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করে দিয়েছেন বর্তমানে সিউল সফরে থাকা মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এর আগে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না চালাতে উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করেছিলেন পেন্স।

পেন্স বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত কারণে যে ধৈর্য এতোদিন দেখিয়ে এসেছে তা আর দেখানো সম্ভব হবে না।

পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে পাঁচটি পারমাণবিক পরীক্ষা এবং একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।

গোটা বিশ্বকে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে জানাতে শনিবার পিয়ংইয়ংয়ে এক বিরাট সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করেন কিম জং উন। এরপর দিন আরও এক ধাপ এগিয়ে কিম ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। উৎক্ষেপণের সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

যদিও বসে নেই কিম জং উন। উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠ পরমাণু বিস্ফোরণটিও ঘটাতে চলেছে, দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার।

উত্তর কোরিয়া রবিবার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাকমাস্টার অত্যন্ত কড়া বিবৃতি দিয়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আচমকা আঘাত হানতেই বেশি পছন্দ করের।’

Facebook Comments