হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ‘পাহাড়সম দাবি’

আশীষ কুমার অঞ্জন, বিশেষ প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন চায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে এটিসহ মোটা দাগে তারা সাতটি দাবির তুলে ধরেছে। এর একেকটি দাবির মধ্যেই আবার নানা বিষয়ে আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আছে সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন। ওবায়দুল কাদের এসব দাবিতে বলেছেন, পাহাড়সম।
শনিবার রাজধানীতে ঐক্য পরিষদের নবম সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে যোগ দেন ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই সম্মেলন শুরু হয়।
ওবায়দুল কাদের তাদের দাবি শুনে বলেন, ‘পর্বত সমান দাবির সামনে আমি দাঁড়িয়ে। সমস্যা থাকবে সমস্যাকে মোকাবেলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
ঐক্য পরিষদের সাত দাবি
প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনের সম্মেলনও হয় দুই পর্বে। সকালের পর্বে যোগ দেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানাদাশ গুপ্ত তার হাতে লিখিত দাবিগুলো তুলে ধরেন।
এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- জাতীয় সংসদে ২০ ভাগ হারে ৬০টি আসন সংরক্ষণ, সাংবিধানিক বৈষম্য বিলোপ, সমঅধিকার ও সমমর্যাদা, সংখ্যালঘু স্বার্থবান্ধব আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য নিরসন, দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন ১৮৪৭ সালে দেশ ভাগের পর এই অঞ্চলে সংখ্যালঘুর সংখ্যা প্রতিনিয়তই কমছে। এমনকি সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশের জন্মের পরও এই প্রবণতা রয়েই গেছে। কেন সংখ্যালঘুরা দেশ ছাড়ছে সে বিষয়টি কোনো সরকার বিবেচনা করে দেখেনি।
ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘কেন এমনটি হচ্ছে সে বিষয়ে অনুসন্ধানে আমরা সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করছি।’
ঐক্য পরিষদের সম্মেলনে বলা হয়, অসাম্প্রদায়িক দেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে বাংলাদেশের জন্ম হলেও এখানে পরে সাম্প্রদায়িকতার বিকাশ হয়েছে। ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুরা নানা সময় অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ থেকে রক্ষা করতে সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
সম্মেলনে তুলে ধরা প্রতিবেদনে ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই অর্পিত সম্পত্তি আইনের বাস্তবায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য
ঐক্য পরিষদের এসব বক্তব্য ও দাবির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রানা দার (রানা দাশ গুপ্ত) আমন্ত্রণে আমি এখানে এসেছি। মূলত জাতীয় সম্মেলনে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি রানা দার দাবি দাওয়া হিমালয় পর্বত। এই পর্বতের সামনে দাড়িয়ে আমি কী বলবো? এখানে তো সমস্যার পাহাড় ‘
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি আপনাদের দাবির বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবো। তবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাটা আমি জানি। উনি নারী এবং মাইনরিটি নেতৃত্ব বেশি পছন্দ করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগেও নির্বাচন মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে আমাকে বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। সেসময়ে আমি দেখেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় নারী ও মাইনোরিটি খোঁজেন। কিন্তু অনেক সময় আমরা উপযুক্ত প্রার্থী পাই না। এটি একটি সমস্যা। কারণ প্রার্থীতো শুধু দিলেই হবে না। যোগ্য হতে হবে। বিরোধী প্রার্থীর সঙ্গে ফাইট করতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে আপনারা যদি যোগ্য প্রার্থী দিতে পারেন অবশ্যই সেটিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।’

Facebook Comments