আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সরাসরি দাঁড়িয়ে ড. ইউনূস বললেন,’পরিবর্তন হবে’

yunusএকুশেরআলো২৪ডেস্ক:  ফের ক্ষমতায় আসার জন্য যখন আওয়ামী লীগ মরিয়া চেষ্টা করছে, তখন দলটির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিলেন বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেছেন, যারা গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংস করতে চায় তাদের হাতে দেশ তুলে দেওয়া যায় না। দুনিয়ার মানুষ গ্রামীণ ব্যাংকের গায়ে একটি আঁচড়ও লাগতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সারা দেশে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে দাবি করে নোবেল বিজয়ী ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি দুর্নীতিবাজদের নিবৃত্ত করবেন। দেশে পরিবর্তন আনবেন।
বুধবার বিকালে রাজধানীর ইউনূস সেন্টারে ভাষানী অনুসারী পরিষদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বললেন। অনুষ্ঠানে ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন, মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফোরকান উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আমিনুল ইসলাম সেলিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২ মার্চ ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপণা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করে বাংলাদেশ। এরপর ব্যাংকটির গঠন কাঠামো পরিবর্তন করে সরকারি শেয়ার বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী পশ্চিমা রাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা ড. ইউনূসকে দায়িত্বে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ সরকার বিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা এই নোবেল বিজয়ীর পক্ষে দাঁড়ায়। বিএনপি ঘোষণা দেয় ক্ষমতায় আসলে ড. ইউনূসকে আবার ফিরিয়ে আনা হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অপসারণের জের ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্প পদ্মাসেতু প্রকল্পে অর্থায়ণ থেকে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ করেন সরকারের একাধিক শীর্ষ ব্যক্তি।
মোটের উপর বলা যায়, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে দেয়ার ইস্যুতে সরকার ও ড. ইউনূসের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত শত্রুতায় পর্যবসিত হয়েছে। যা সরকারের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই মাস আগে নতুন মাত্রা পেলো।
বুধবারের মতবিনিময়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘৮৪ লাখ পরিবার গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্য। আমরা তাদের জমি দিতে না পারলেও টাকা দিতে পেরেছি। গ্রামীণ ব্যাংকে আট হাজার কোটি টাকা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যরাই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক। তারা তাদের প্রতিষ্ঠান কেড়ে নিতে দেবে না। তারা প্রতিবাদ জানাবে। তারা এই প্রতিষ্ঠানে একটি আঁচড়ও লাগতে দেবে না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে ১৯ টুকরা করতে চেয়েছে। এর মালিকরা এটা মানবে না। সারা দেশের মানুষ তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। আপনারা এসেছেন, আমাদের শক্তি বেড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের ধ্বংস সারা দুনিয়ার মানুষ চায় না। পৃথিবীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বিবৃতি দিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না।’
নোবেল বিজয়ী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আজকে প্রতিটি কাজ ঘুষ দিয়ে করতে হয়। আমরা কি এ রকম একটি দেশ চেয়েছিলাম? যারা দুর্নীতি করতে চায়, আমরা তাদের নিবৃত্ত করব। আমাদের পরিবর্তন করতেই হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা পরিবর্তন করব। পরিবর্তন হবে।’
মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিচারণা করে ড. ইউনূস বলেন, ‘১৯৭৬ সালে আমি একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে চট্টগ্রামের জোবরা গ্রাম থেকে টাঙ্গাইল গিয়েছিলাম। অনেকে আমার সফলতার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছিল। আমি বলেছিলাম, সফল হলে সফল, না হলে দোষ স্বীকার করে নেব। আমি দুই বছর ছুটি নিয়ে টাঙ্গাইল থেকেছি। সেখানে আমি মওলানা ভাসানীর অনুসারীদের দেখেছি, বুঝেছি।’
ড. ইউনূস বলেন, মওলানা ভাসানী গরিব মানুষের মনে যেভাবে স্থান করে নিয়েছেন, অন্য নেতাদের পক্ষে সেখানে স্থান পাওয়া কষ্টকর হবে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাসানী অনুসারী পরিষদের নেতারা ড. ইউনূসকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন চেয়ার থেকে উঠতে না পারায় ড. ইউনূস নিজেই তার কাছে গিয়ে ফুল নেন। আব্দুল মতিনের প্রতি মাথা নুইয়ে ইউনূস সেন্টারে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. ইউনূস।
এ সময় ভাষাসৈনিকের প্রতি ড. ইউনূস বলেন, ‘আপনার মতো একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আমার প্রতিষ্ঠানে আসায় আমি গর্বিত, আমার প্রতিষ্ঠান গর্বিত।’

Facebook Comments