কঠোর আন্দোলন নিয়ে ভাবছে বিএনপি

BNP LOGOনূরে আলম জীবন, ১০ ফেব্রুয়ারী: উপজেলা নির্বাচন, দলীয় কাউন্সিল ও ১৯ দলীয় জোটের জাতীয় ঐক্যকে গড়ে শিগগিরই কঠোর আন্দোলনের কথা ভাবছেন বিএনপি। এজন্য ইতোমধ্যে সারাদেশের ৭৫টি সাংগঠনিক সফরও বাতিল করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে আন্দোলন জোড়দার করতে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সমন্বয়ে ৪৫টি দল সাংগঠনিক সফর করার কথা ছিল। কিন্তু সামনে উপজেলা নির্বাচনে দলটির নেতা-কর্মীরা অংশ নেওয়ায় সাংগঠনিক সফরকালে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে। কারণ গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি এমনিতেই তৃণমূল নেতা-কর্মীর ক্ষোভ রয়েছে। ফলে এ অবস্থায় সাংগঠনিক সফর বাতিল, উপজেলা নির্বাচন সম্পূর্ণ ও দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে আন্দোলনের কথা ভাবছে দলটি। যদিও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই দলীয় কাউন্সিল করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য।
সূত্রমতে, আগামী এপ্রিল নাগাদ কাউন্সিল হতে পারে। কাউন্সিল করতে ইতিমধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নেতাদের নির্দেশও দিয়েছেন। কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভবনা অনেক বেশী। এ ছাড়া তৃণমূলের যেসব ত্যাগী নেতা রয়েছেন তাদেরও এবার মূল্যায়ন করা হবে। এবং কাউন্সিল শেষ করেই সরকার পতনের মতো কঠোর আন্দোলনে যাবে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কাউন্সিলের পরেই কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ আন্দোলনে শুধু বিএনপি ও ১৯ দলীয় জোট নেতা-কর্মীরাই অংশ নেবে না দেশের জনগণ, সকল পেশার জনগণও আন্দোলনে অংশে নেবে। কাজেই জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এ সরকারের পতন ঘটানো হবে।
একই কথা বলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানও। তিনি বলেন, আমরা সব সময় শান্তির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আর একমাত্র সমঝোতার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে। কাজেই আমরা বারবার সমঝোতার জন্য সরকারকে আহ্বান করেছি। কিন্তু তাদের নেতা ও মন্ত্রীদের কথা বার্তায় মনে হচ্ছে না তারা কোনো সমঝোতায় আসবেন। ফলে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প আর কোনো পথ নেই। উপজেলা নির্বাচনের পর ১৯দলীয় জোটের জাতীয় কনভেনশন করার কথা ভাবছে। গত ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের আগে-পরে সরকার বিরোধী আন্দোলনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের হামলায় নিহতদের স্বজন, আহত, পঙ্গু নেতাকর্মী ও ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ কনভেনশন হবে। কনভেনশনে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যম, মানবাধিকারকর্মী, দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
জানা যায়, কনভেনশনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরলে সরকারের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক চাপ সামলে সরকারকেই পাল্টা চাপে ফেলানো সম্ভব হবে। সে বিবেচনায়ই এই কনভেশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ১৯ দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়া। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে দল ও জোট নেতাদের সঙ্গে তিনি আলোচনাও করেছেন। আন্দোলনের রূপরেখায় আগামীর জন্য তারেক রহমানকে পাশে চায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিএনপি’র হাইকমান্ড মনে করেণ এখনো তার(তারেক রহমানের) দেশে আসার সময় হয়নি। আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যদি তিনি আসেন তাহলে হয়তো আইনি জটিলতায় তাকে শেষ করে দেবার চেষ্টা করবে।

Facebook Comments