প্রবেশপত্র না পাওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের থানা ঘেরাও

thana gheraoগফরগাঁও (ময়মনসিংহ), ৯ ফেব্রুয়ারি: রাস্তার উপর চকচকে সাদা টয়োটা গাড়ি থেকে হাত বাড়িয়ে নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ একটি কাগজ ধরে গত শনিবার গফরগাঁও উপজেলার রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদকে খোঁজ করছিল একদল এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ৯৭ জন পরীক্ষার্থী রৌহা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাবু টানিয়ে রাত্রি যাপন করেন।

রবিবার থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে তারা গফরগাঁওয়ে আসে। কিন্তু রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ প্রবেশপত্র না দিয়ে শনিবার রাত থেকেই মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে গাঁ ঢাকা দেয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি ওই ৯৭ জন পরীক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর অভিজাত এলাকার বাসিন্ধা ও নামজাদা স্কুলের শিক্ষার্থী হয়েও তারা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে ফরম পূরণে ব্যর্থ হয়ে গফরগাঁও উপজেলার রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করে। পরে এসব পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ করিয়ে দেয়ার নামে ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ।
ফি বছর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরের শিক্ষার্থীদের মফস্বল কেন্দ্র থেকে নকল সুবিধাসহ পাশের নিশ্চয়তা দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ফরম ফিলাপ করিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বোর্ডসহ প্রশাসন নড়ে চড়ে বসে। এক বছর বাদ দিয়ে ২০১২ সালে আবার এসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ করিয়ে পরীক্ষার সুযোগ করে দিয়ে রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মারুফ আহমেদ কামিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এবছর আবারো তিনি দুই শতাধিক পরীক্ষার্থীর ফরম ফিলাপ করিয়ে কামিয়ে নেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা। কিন্তু রবিবার থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা ৯৭ পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।
রাজধানী ঢাকার শাহাদাতপুরের নিটেল এঞ্জেল স্কুলের ছাত্র সাগর মাহমুদ, রিয়াজ আহমেদ, আরিফ, আপন, ইলিয়াস সরকার প্রান্ত, জুবায়ের আল কাদরি, মুগদা স্ট্যান্ডার্ড কিন্ডার গার্টেন স্কুলের সানোয়ার হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, আশরাফুল ইসলাম, মুগদার স্ট্যান্ডার্ড টিউটোরিয়াল স্কুলের আখি আকতার, রাণী, মুক্তাসহ আরো অনেক পরীক্ষার্থীরা জানান, রৌহা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ঢাকা বোর্ডের জনৈক কর্মচারীর মাধ্যমে ফরম ফিলাপ করে আমরা ৯৭ জন এসএসসি পরীক্ষা দিতে গফরগাঁওয়ে এসেছি।
কোন বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন জানতে চাইলে এসব পরীক্ষার্থীরা জানায়, আমরা জানি না কোন বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিচ্ছি। তবে মারুফ স্যার বলতে পারবেন।
পরীক্ষার্থীরা জানায়, ফরম ফিলাপ বাবদ মারুফ স্যার ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন।
তবে আমরা কোন বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেব জানতে চাইলে মারুফ স্যার বলেন, তোমাদের পরীক্ষা কেন্দ্র ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যায় আর কোন বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিবে তা পরীক্ষার দিন সকালে তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে।
গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব নূরুল ইসলাম শিকদার বলেন, বিষয়টি অবশ্যই অনৈতিক। অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের ব্যাপারে আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

Facebook Comments