হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবাকে দেখতে এসে লাশ হলো শিশু সাকিব

হাসপাতালে ভর্তি বাবাকে দেখতে এসে ফটকে অ্যাম্বুলেন্স চাপায় জীবন হারালো সাত বছরের সাকিব। গুরুতর আহত হয়েছে তার মাসহ পাঁচ জন। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও এক বৃদ্ধ, যার নাম বলতে পারেননি কেউ। তিনি ওই এলাকায় ভিক্ষা করতেন বলে ধারণা করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তার সঙ্গে একটি ভিক্ষার থালা পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় আহত পাঁচ জনের নিহত সাকিবের মাসহ তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদেরকেসহ চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত এক নারীর ছয় বছর বয়সী ছেলে শিশুও ব্যাথা পেয়েছে, তবে তার আঘাত গুরুতর নয়।

সকাল নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া জানান, একটি অ্যাম্বুলেন্স বেপরোয়া গতিতে হাসপাতালে ঢোকার সময় উল্টে যায়। এ সময় গাড়ির নিচে চাপা পড়েন নিহত ও আহতরা।

এই ঘটনার সময় ওই এলাকায় উপস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সহকারী পরিদর্শক মাসুম আলী বলেন, ‘আমি হাসপাতালের ভেতরে ছিলাম। হঠানৎ বিকট শব্দ শুনে গেটে গেলাম। গিয়ে দেখি চারজনের অবস্থা মুমূর্ষু। আহতদেরকে দ্রুত হাসপাতালে দিয়ে আসি।’

মাসুম আলী জানান, এই ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স চালক সোহেল নিজেও আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয়রা আটক করে শাহবাগ থানায় ফোন দেয়। এরপর পুলিশ গাড়িসমেত তাকে ধরে নিয়ে যায়।

দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটির নাম মানব সেবা অ্যাম্বুলেন্স। গাড়িটির নম্বর সিলেট ছ-৭১-০০৬৪। মাসুম আলীর ধারণা চালকের বয়স ১৮ হতে পারে বা তার চেয়ে কম।

নিহত সাকিবের বাবা বার্ন ইউনিটে ভর্তি, মায়ের অবস্থাও গুরুতর

হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া জানান, নিহত সাকিবের বাবা ফেরদৌস আলী ওই হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতে সাকিবের মা গোলেনুর বেগম হাসপাতালে এসেছিলেন। সঙ্গে ছিল সন্তান। হঠাৎ গাড়িটি তাদের ওপরে উঠে গিয়ে সব কিছু তছনছ করে দেয়। এখন স্বামী-স্ত্রী দুজনই হাসপাতালে ভর্তি। গুলেনূরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গুরুতর আহত সূর্য বেগমের স্বামী জাকির হোসেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি। তাকে দেখতে তিনি বাবা আবুল হোসেন ও ছয় বছরের ছেলে সজীবকে নিয়ে এসেছিলেন হাসপাতালে। এই দুর্ঘটনা সূর্যকেও ভর্তি করিয়েছে হাসপাতালে। তার ছেলে সজীবের আঘাত লাগলেও সেটি গুরুতর হয়। সকালে হাসপাতাল গেটে গিয়ে আবুল হোসেনকে তার নাতি সজীবকে চোখে রাজ্যের হতাশা নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেলো। আবেগে তার গলা ধরে আসছিল। তিনি ঠিকমত কথাও বলতে পারছিলেন না।

সূর্য বেগম গর্ভবতী বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাসুম আলী। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন তিনি।

আহত অন্য যারা

পুলিশ কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া জানান, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে স্ত্রী সাথী বেগমের চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন রমজান আলী। গাড়ি চাপায় পিষ্ট হয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রমজান। তার আঘাত গুরুতর।

আহত অপরজনের নাম বাচ্চু মিয়া এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জ থেকে। তার বয়স আনুমানিক ৩৫। তিনি চিকিৎসা করাতে নাকি রোগী দেখতে এসেছিলেন, সে বিষয়ে হাসপাতালে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা কিছু জানাতে পারেননি।

Facebook Comments