অনেক শ্রমিকের পরিণতি অজানা

গাজীপুরের টঙ্গীতে কারখানায় আগুন লাগার সময় ভেতরে শ্রমিকরা কাজ করছিল। এদের কয়জন বের হয়ে আসতে পেরেছেন সেটা স্পষ্ট নয়। ফায়ার সার্ভিস বলছে, ভেতরের শ্রমিকদের পরিণতি কী হয়েছে সে বিষয়ে আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না।

শ্রমিকদের উদ্বিগ্ন স্বজনরা কারখানার সামনে এসে জানার চেষ্টা করছেন কী হয়েছে প্রিয় মানুষের। কিন্তু তাদেরকে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারছে না।

দুর্ঘটনার পর কারখানাটি থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আর জীবিত উদ্ধার করে আহত ৩৩ জনকে নেয়া হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখানে আসার পর মারা গেছেন আরও তিনজন। এই ৪৯ জনের বাইরে বাকিদের নিয়েই আছে শঙ্কা।এই কারখানায় একেকটি শিফটে প্রায় সাড়ে তিনশ শ্রমিক কাজ করে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

তাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড নামে প্যাকেজিং কারখানাটি আজকের কাজ শেষে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল। ভোর ছয়টার দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল রাতের শিফটের কাজ। তার মিনিট দশেক আগে বিস্ফোরণের পর কতজন সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছেন সেই তথ্য নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ।

আবার ভোর ছয়টা থেকে আরও একটি শিফট শুরু হয় বলে জানিয়েছেন কারখানার ফটক থেকে ফিরে আসা একজন শ্রমিক। তবে তার মত সবাই ফিরে এসেছে কি না, কেউ আগেই ভেতরে ঢুকেছে কি না, সেটা জানা যাচ্ছে না।

তবে দুর্ঘটনার সাড়ে চার ঘণ্টার পর ভবনের ছাদ থেকে দুটি হাত দিয়ে ইশারা করতে দেখা যায়।

কারখানাটির মালিক পক্ষের কেউ ঘটনাস্থলে গিয়েছেন কি না, সেটা নিশ্চিত নয়। তবে কারখানার সামনে পাওয়া গেলো এখানকার এক কর্মকর্তাকে। তার নাম লুৎফর রহমান। তিনি নিজেকে কারখানাটির ফ্যাক্টরি ইনচার্জ বলে পরিচয় দেন। তবে দুর্ঘটনা বা শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। দুর্ঘটনার কারণে তার মধ্যে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। আসলে কথা বলতেও পারছিলেন না তিনি। তিনি কেবল বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারবো না, আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।’

কারখানা ভবনের বাইরে অবস্থান নেয়া শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই কারখানাটিতে তিন শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। এদের মধ্যে রাতের শিফটে থাকে একশ বা তার কিছু বেশি।

ভেতরে যারা ছিলেন তাদের স্বজনরা সকালেই ভিড় করেছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে। তবে তারাও কোনো তথ্য পাচ্ছেন না। এখান থেকে কিছু মরদেহ টঙ্গী হাসপাতালে নেয়া হয়েছে শুনে সেখানেও ছুটে যাচ্ছেন তারা। আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত ২২ জনকে ভর্তির খবরে ঢাকার দিকেও চলে এসেছেন কেউ কেউ।

কারখানাটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট। ভেতরে কতজন শ্রমিক ছিলেন, এরা কোন ফ্লোরে ছিলেন, তাদের পরিণতি কী হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সে তথ্য জানার সুযোগ নেই এই বাহিনীটিরও।

জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশাসন) আনিস মাহমুদ বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলতে পারছি না। ভেতরে অনেকে আটকা পড়েছে জেনেছি, তবে তারা কতজন এবং তাদের অবস্থা কী, সেটাও বলা যাচ্ছে না।’

Facebook Comments