তামিমের খোঁজে কল্যাণপুর থেকে পাইকপাড়া

পুলিশের কাছে তথ্য ছিল কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানাতেই ছিলেন ‘সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতার মূল হোতা’ তামিম চৌধুরী। তবে গত ২৬ জুলাই পুলিশের অভিযানের আগেই সটকে পড়তে সক্ষম হন তিনি।

তামিম কোথায়? হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ-র‌্যাব। ধরিয়ে দিলে মিলবে ২০ লাখ টাকা- ঘোষণা হয় পুরস্কার।

পুলিশের কাছে থাকা তথ্য বলছে, ২০১৩ সালে কানাডা থেকে দুবাই হয়ে দেশে ফেরেন তামিম। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজই ছিল না। আর এই আত্মগোপনে থেকে তিনি জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত বিভিন্ন গোষ্ঠীকে এক করেছেন, পুলিশের ভাষায় গড়ে তুলেছেন নতুন জঙ্গিগোষ্ঠী ‘নিউ জেএমবি’।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী নতুন এই জেএমবিই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণদেরকে উগ্রবাদে জড়িয়েছিলেন তামিম চৌধুরী ও সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত জিয়াউল হক। তারা দুজনে মিলে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় ছিলেন।

আর্টিজান হামলার পর থেকেই তামিম চৌধুরীকে খুঁজতে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কর্মকর্তারা বলছেন, তাকে ধরার কাছাকাছি চলে এসেছিলেন তারা। কল্যাণপুর আস্তানায় তার অবস্থানের তথ্য ছিল। কিন্তু ২৬ জুলাই আস্তানাটিতে অভিযান শুরুর আগেই সটকে পড়েন তিনি।

এই অভিযানের এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ তামিমকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে। আর ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকদের সতর্ক হওয়ার কথা জানায়।

কিন্তু এর মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় বাড়ি ভাড়া নেন তামিম। নিজেকে পরিচয় দেন ব্যবসায়ী বলে। কিন্তু এর আগে আটক জঙ্গিদের একজনের কাছ থেকে এই আস্তানার কথা জেনে যায় পুলিশ। এরপর গত কয়েক দিন ধরে আরও তথ্য সংগ্রহের পর অভিযানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শুক্রবার গভীর রাতে বাড়িটি ঘেরাও করা হলেও অভিযান চালাতে দেরি করছিল পুলিশ। কারণ, ভেতরে কোনা নারী বা শিশু ছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছিল তারা। আর ভেতরে তিন জঙ্গি ছাড়া আর কেউ নেই নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযানে যায় পুলিশ।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির পর ওই বাড়িতে থাকা তিন জঙ্গিই নিহত হয়।

কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় নিহত সবাই কালো পাঞ্জাবি পড়া ছিলেন। তাদের আস্তানায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের পতাকাও পাওয়া যায়। তাদের মতই কালো পোশাক ছিল পাইকপাড়া আস্তানায়। তবে তাদের সবার গায়ে ছিল কালো গেঞ্জি।

Facebook Comments