বলিউডের যে আলোচিত সিনেমাগুলো মুক্তি পায়নি

সিনেমা মুক্তির আগেই অনেক সময় পোস্টার, নায়ক-নায়িকা কিংবা কোন গান দর্শকদের মুগ্ধ করলে স্বাভাবিকভাবে ওই সিনেমা নিয়ে আশা তৈরি হয়। কিন্তু শেষমেষ ছাড়পত্র না মিললে হতাশ হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকে না।

বলিউডে এ রকম সিনেমার সংখ্যা অনেক যেগুলো মুক্তির আগে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত মেলেনি ছাড়পত্র। মুক্তি না পাবার কারণ হিসেবে কাহিনীর জটিলতা, অভ্যন্তরীণ গোলযোগ আর সেন্সর বোর্ডকে দায়ী করা হয়। মুক্তি না পাওয়া এমন সিনেমার সংখ্যা নেহায়েত কম না। এবারের প্রতিবেদনে থাকছে এমন কিছু সিনেমার তথ্য ।

টাইম মেশিন : প্রায় চারভাগের তিনভাগ শুটিং শেষ হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি সিনেমা টাইম মেশিন। শেখর কাপুর পরিচালিত এই সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন আমির খান, নাসিরুদ্দিন শাহ্‌। ছবিটি তার পোস্টারের জন্য আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। কিন্তু ১৯৯২ সালে এটি মুক্তির কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় পড়ে পরে আর মুক্তি পায়নি।

আলিশান : আলিশান সিনেমাটি মুক্তি পাবার আগেই এটা নিয়ে বলিউডপাড়ায় বেশ শোরগোল উঠেছিল। কারণ তখনকার অন্যতম হিট নায়ক অমিতাভ বচ্চনকে সিনেমাটিতে দেখা যাবে নেগেটিভ চরিত্রে। প্রায় এক সপ্তাহও শুটিংও হয়েছিল। তবে অভ্যন্তরীণ জটিলতায় ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাবার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সিনেমাটি দেখেনি মুক্তির আলো।

পাঁচ : ‘পাঁচ’ নামের সিনেমাটি মুক্তির কথা ছিল ২০০১ সালে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মুক্তি পায়নি তা। বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু অসগলগ্ন দৃশ্যের কারণে ওই বছরই সিনেমাটি আঁটকে দেয় ভারতীয় সেন্সর বোর্ড। বোর্ডের দাবি ছিল সিনেমাটিতে বেশ কিছু দৃশ্যে খারাপ ভাষা, মাদকের ব্যাবহার শেখানো হয়েছিল যার কারণে অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত সিনেমাটি এখনো মুক্তি পায়নি।

লেডিস অনলি : দীনেশ সাইলেন্দ্রা পরিচালিত লেডিস অনলি সিনেমাটি মুক্তি পাবার কথা ছিল ১৯৯৭ সালে। তিন নারীর চরিত্রায়নে ক্রাইমের বিভিন্ন গল্পের ওপর নির্মিত এই সিনেমায় একাধিক খুনের দৃশ্য দেখানো হয়। যেগুলো অনেক ভয়ঙ্কর এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় সেন্সর বোর্ড আটকে দেয় সিনেমাটি। ফলে সিনেমাটির আর মুক্তি হয়নি।
লেটস ক্যাচ বীরাপ্পন : গ্রামের বিভিন্ন দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করার কথা ছিল একটি কমেডি সিনেমা। যার নাম হবে লেটস ক্যাচ বীরাপ্পন। তবে প্রথম দিনের শুটিংয়ের পর সেটেই একজনের মৃত্যু এবং পুলিশি বিভিন্ন জটিলতায় সিনেমাটির শুটিং আর এগোতে পারেনি। যার জন্য ২০০৪ সালে মুক্তির কথা থাকলেও এই সিনেমাটি এখনো মুক্তি পায়নি।

ডাস : ডাস সিনেমাটি মুক্তি পাবার কথা ছিল ১৯৯৬ সালেই। সিনেমাটির পরিচালক মুকুল আনন্দ অনেক স্বপ্ন নিয়েই তাই হয়তো সিনেমাটির জন্য চুক্তি করিয়েছিলেন সঞ্জয় দত্ত এবং সালমান খানের মতো অভিনেতাদের। ছিলেন শিল্পা শেঠিও। তবে প্রায় অর্ধেক শুটিং শেষ হবার পর পরিচালকের মৃত্যুর কারণে সিনেমাটির শুটিং আর শেষ করা হয়নি যার কারনে এটির মুক্তি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

সারহাদ : সারহাদ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিনোদ খান্না এবং বিদ্দিয়া গোস্বামী। ১৯৭৬ সালে এটি মুক্তির কথা থাকলেও শেষমেশ এটি আর মুক্তি পায়নি। কারণ অর্ধেক শুটিং শেষ হবার পর সিনেমাটির প্রযোজক সিনেমাটি নিয়ে আর এগুতে চাননি। যে কারণে জে পি দত্তের এই সিনেমাটি এখনো পর্যন্ত পৌছাতে পারেনি দর্শকদের কাছে।