৬ দিনের সফরে জার্মান-আমিরাত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক : ছয় দিনের সফরে বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, রোহিঙ্গা বিষয়ে আলোচনা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এ সফরের লক্ষ্য।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে জার্মানির উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে অংশ নেয়ার পাশাপাশি জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিমেন্স কোম্পানির গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জার্মান রিক্রুট কোম্পানি ভেরিডোসের সিইওর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ হতে পারে। সিমেন্স বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে সেখানকার ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখদুমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার এবং প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ওই দেশে বাংলাদেশিদের আরও বেশি কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে অবদান রাখবে। এ ছাড়া দেশটির সঙ্গে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাখাইনে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে এখন সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের সদস্য দেশ ১৯৩টি, এর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ। এখন অন্যান্য দেশ তাদের (রোহিঙ্গাদের) আশ্রয় দিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিদেশিদের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলে ধরি। এর সমাধান সহজ নয়, তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

ছয় দিনের সফর শেষে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরবেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।