২২০০ কোটির নেইমারকে কেনার মতো কেউ নেই!

২২০০ কোটির নেইমারকে কেনার মতো কেউ নেই!

নিউজ ডেস্ক : পিএসজি ছেড়ে দিতে চায়, নেইমারও রাজি প্যারিস ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে। কিন্তু কে কিনবে নেইমারকে? বিশ্বের যত রথি-মহারথি ক্লাবগুলো রয়েছে, নেইমারের মত ফুটবলারকে কেনার সাহস হচ্ছে না কারোরই।

নেইমার যে মানের ফুটবলার, তাতে তাকে কেনার জন্য ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর লাইন পড়ে যাওয়ার কথা। অথচ, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারটিকে কেনার আগ্রহই দেখাচ্ছে না কোনো ক্লাব। শুধুমাত্র ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব চেলসিই যা একটু-আধটু আগ্রহ দেখাচ্ছে; কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্রাজিলিয়ানকে কেনার প্রস্তাব দেয়নি এখনও ব্লুজরা।

কেন নেইমারকে নিয়ে এমন অনাগ্রহ ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর? এর মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক বাস্তবতা। সে সঙ্গে ফুটবল দর্শনের নতুনত্ব। এই দুটি বড় বাধাই মূলত নেইমারকে নিয়ে ক্লাবগুলোকে আগ্রহী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে বড় কথা, এখনও নেইমারের যে অর্থনেতিক বহর, তাতে করে তাকে ধারণ করা অনেক ক্লাবের ক্ষেত্রেই সম্ভব নয়।

২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ২২২ মিলিয়ন ইউরোয় (প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা) পিএসজিতে এসে যোগ দেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। বর্তমানে পিএসজি থেকে বছরে ৪৩ মিলিয়ন ইউরো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন তিনি। সপ্তাহে যার পরিমাণ ৭ লাখ ইউরো।

পিএসজিই বা কেন এই সময়ে এসে নেইমারকে বিক্রি করে দিতে চায়? অথচ, তার সঙ্গে মাত্র এক বছর আগে নতুন চুক্তি করেছি পিএসজি। যে চুক্তির আলোকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্যারিসের ক্লাবটিতে থাকতে পারবেন তিনি। এর অর্থ, ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলারের এখনও ৫ বছর প্যারিসে থাকার অধিকার রয়েছে।

এরই মধ্যে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে বড় চুক্তি করেছে পিএসজি। তার পারিশ্রমিকও অনেক বেশি। সে সঙ্গে রয়েছেন মেসিও। তারও পারিশ্রমিক নেইমারের আশপাশে। সব মিলিয়ে এই তিন ফুটবলারের পারিশ্রমিক গুনতেই জেরবার পিএসজি।

যদিও দলটির কাতারি বিনিয়োগকারী সংস্থার পক্ষে এই ব্যয় বহন করা সমস্যা নয়। তবে, ইউরোপিয়ান ফুটবলের অর্থনৈতিক নিয়ম-নীতি মেনে লাভজনক ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করতে, তাদেরকে এই ব্যয় কমানো জরুরি। যে কারণে, নেইমারকে ছেড়ে দিয়ে নিজেদের এই আর্থিক অবস্থার ভারসাম্য আনার চিন্তা করছে প্যারিসের ক্লাবটি। যে কারণে, ক্রেতা পেলেই ব্রাজিলিয়ান এই তারকাকে ছেড়ে দেবে পিএসজি।

শুধু আর্থিক বিষয়ই নয়, নেইমারকে যে উদ্দেশ্য নিয়ে পিএসজি বার্সেলোনা থেকে নিয়ে এসেছিল, তার কোনো কিছুই অর্জন হয়নি তাদের। ৫ মৌসুমে ৪টি লিগ ওয়ান শিরোপা জিতেছেন তিনি। গত ৫ বছরে দীর্ঘ সময় ইনজুরিতে পড়ে থাকা, ফিটনেস সমস্যার কারণে ঠিক মত খেলতেই পারেননি তিনি। শেষ তিন বছরে লিগ ওয়ানে খেলেছেন কেবল ৫৫টি ম্যাচ। গোল করেছেন ৩৫টি। তবুও, ২০২০ সালে দলকে তুলেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে। যেখানে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।

ফিটনেস এবং পারফরম্যান্সের এই দশার পাশাপাশি ক্লাবের কোচদের সঙ্গে নেইমারের খারাপ সম্পর্কও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। সাবেক কোচ টমাচ টুখেল এবং বর্তমান কোচ মাওরিসিও পোচেত্তিনোর সঙ্গে নেইমারের সম্পর্ক যারপরনাই খারাপ। টুখেল অনেক চেষ্টা করেও ব্রাজিলিয়ান তারকার কাছ থেকে তার সেরাটা বের করে আনতে পারেননি।

সব মিলিয়ে একের পর এক সমস্যার পাহাড় আর উচ্চ অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে নেইমারকে কোনো ক্লাবই কিনতে আগ্রহী নয়। যদিও, শুধুমাত্র চেলসি চেষ্টা করছে তাকে কিনে নিতে। এমনকি তারা নেইমারের পিএসজিতে পাওয়া পারিশ্রমিকের কাছাকাছিও দিতে রাজি বলে জানা গেছে।