‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সমাবেশে স্বপ্নের কথা শুনালেন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা

বাংলাদেশ দিনদিন নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা সম্ভব। ছাত্রলীগ ডাকসু নির্বাচনে আন্তরিক। ঢাবির হলের খাবারে লবন মরিচ থাকেনা, কত না খেয়ে থেকেছি। নুডুলস খেয়েও দিন কাটিয়েছি। হলে সিট নাই, ছাড়পোকায় কামড়ায় শিক্ষার্থীদের।

 

আজ বুধবার ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্রলীগের আয়োজিত ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য’ সমাবেশে এসব কথা বলেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। এখনো ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হয়নি বলেও জানান তিনি।

 

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর হাইকোর্টের নির্দেশে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে। ছাত্রলীগসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনও এ বিষয়ে আন্তরিক। প্রশাসনও এ বিষয়ে আন্তরিক। তাই আমরা ডাকসু নির্বাচন চাই। তবে এ বিষয়ে এখনো নেত্রীর সাথে কোন কথা বলিনি। তাঁর সাথে কথা বলে আমরা কিভাবে কী করবো এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সাথে আলোচনা করে রোডম্যাপ ঠিক করবেন বলে জানান তিনি।

‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সমাবেশে স্বপ্নের কথা শুনালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মানবিক ছাত্রনেতা গোলাম রাব্বানী।

 

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রধান প্রধান সমস্যা নিয়ে বক্তব্য দেন এই সমাবেশে। তার বক্তব্যে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মীরা।

 

বুধবার বিকালে ঢাবির অপরাজেয় বাংলায় এক সমাবেশে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সরাসরি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বক্তব্য। যাতে ছিলনা কোন শুভংকরের ফাঁকি।

 

তিনি বক্তব্যে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, নিউক্লিয়াস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আপনারা এসেই দেখছনে হলে সিট সংকট। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের কথা বলার জন্য একটি প্লাটফরম খুঁজছে। দীর্ঘ ২৮ বছর আমরা যা পাইনি। এখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ স্পস্ট বলতে চায়- দীর্ঘ ২৮ বছরের গড়িমসি, প্রশাসনের যে ছেলেখেলা সেখান থেকে আমরা মুক্তি চাই। অবিলম্বে ডাকসুর তফসিল ঘোষণা চাই।

 

রাব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের অধিকাংশ অর্থই থাকে শিক্ষকদের জন্য। তাহলে ছাত্রদের কথা কে বলবে?ছাত্ররা সিটের অভাবে শীতের রাতে বারান্দায় কুকড়ে মরে। আমাদের এই শিক্ষার্থী ভাই বোনদের কথা বলবে কে? আমরা চাই আমাদের ভোটে নির্বাচিত নেতা আমাদের কথা সিন্ডিকেটে গিয়ে বলুক।

 

”এই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যখনই যে চা চেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাই দিয়েছেন। তিনি আমাদের ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রধান সমস্যা নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিলেন ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেইন। তার বক্তব্যে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মীরা।

 

বুধবার বিকালে ঢাবির অপরাজেয় বাংলায় এক সমাবেশে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে আশার সঞ্চার শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

 

সাদ্দাম হোসেইন তার বক্তব্যে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ডাকসুর জন্য ২৮ বছর অপেক্ষা করেছি আর ২৮ দিনো অপেক্ষা করতে চাইনা।অনতি বিলম্বে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

 

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দায়িত্বের ব্যাপারে নির্লিপ্ত। সিট দখল কেন্দ্রিক রাজনীতি ছাত্রলীগ করতে চায়না। দেশ ডিজিটালের পথে এগিয়ে গেলেও ঢাবি এখনো এনালগ। অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রমকে অটোমেশন সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে’

 

ঢাবিতে রয়েছে তীব্র আবাসান সংকট। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সিটের নিশ্চয়তা দেয়না। তারা কোথায় থাকবে তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই। ঢাবিকে পূর্ণাঙ্গ আবাসন বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করতে হবে, বলেন সাদ্দাম।

 

”৭ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কোন দায়িত্ব নেয়না। আজকে আমরা এ সমাবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্লিপ্ততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই।”

 

সাদ্দাম তার বক্তব্যে বলেন, সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোর বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয় টাকা বানানো কোন কারখানা নয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পকালীন শিক্ষাদানের কোন ট্রেনিং সেন্টার নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকবেন আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবে, এটা ছাত্রলীগ মেনে নিবেনা।

ছাত্রলীগের ১৪ দফা

 

এর আগে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে ১৪টি দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। দাবির পক্ষে আজ বুধবার ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ করেন সংগঠনটি। ছাত্রলীগের দাবিগুলো হলো, অনতিবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা, বিশ্বের সর্বাধুনিক কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ, ক্যাম্পাসে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও রিকশা ভাড়া নির্ধারণ, গবেষণা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদান, ‘সান্ধ্যকালীন কোর্স’ নিয়ে বিচার বিশ্লেষণের জন্য ‘শিক্ষা কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি ও বাস্তবায়ন, ক্যান্টিনের খাবারের মান যথোপযুক্ত করা, অযৌক্তিকভাবে বর্ধিত সকল পরীক্ষা ফি প্রত্যাহার, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য রুট বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত পরিবহনের মাধ্যমে যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য নবীনবরণ প্রদান ও আবাসন সংকটের আপৎকালীন সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট’ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে ‘আন্তর্জাতিক সেমিনার’ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গ্রহণ।

 

উল্লেখ্য আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নির্বাচনের জন্য বলেছে হাইকোর্ট।