সিলেট প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সমাবেশ : সিলেটে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত

সিলেট প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সমাবেশ : সিলেটে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত

69786_759666সিলেট, ১১ আগস্ট : সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর সকল অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিলেটের সাংবাদিকরা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মন্ত্রীর অপসারণ দাবি করা হয়েছে। এ দাবিতে সিলেট প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে তিন দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ সিদ্ধান্ত হয়। সাংবাদিকদের সম্পর্কে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর অশালীন ও কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে সিলেট প্রেসক্লাব এ সমাবেশের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী সমাজকল্যাণমন্ত্রীর অপসারণ দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, মন্ত্রীর অপসারণ দাবিতে সাংবাদিকদের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে মঙ্গলবার থেকে ৫ দিন এক ইঞ্চি দুই কলাম জায়গা খালি রাখা এবং মঙ্গলবার থেকে তিন দিন এক ঘন্টা করে কলমবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রেসক্লাব সভাপতি বলেন, আমরা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রীর অনুষ্ঠান বর্জনের পাশাপাশি কোন অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ না জানানোর জন্য সিলেটের সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী সারাদেশের মানুষের জন্য কলংকজনক অধ্যায় রচনা করেছেন। মন্ত্রীর বক্তব্য আমাদের পেশার ওপর সরাসরি আক্রমণ। পেশা নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারো নেই।
প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ-দুঃখ প্রকাশ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দেয়া বিবৃতিরও কঠোর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, নিজের গা বাঁচাতে মন্ত্রী বিবৃতিতে অযথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তারা বিষয়টি তদন্তেরও দাবি তুলেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে সিলেট বাসীর জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, তাকে অবিলম্বে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণ করতে হবে। ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের জন্য মন্ত্রীকে সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা  চাইতে হবে। তা না হলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন- কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান আহমেদ নূর, সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আজিজুল হক মানিক, দৈনিক সিলেট সংলাপ সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান,  বাংলা টিভির ব্যুরো প্রধান আব্দুল মালিক জাকা, সময় টিভি’র ব্যুরো প্রধান ইকরামুল কবির, দৈনিক পুন্যভূমির প্রধান বার্তা সম্পাদক আ ফ ম সাঈদ, দৈনিক কাজিরবাজারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ সুজাত আলী, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর বার্তা সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর, দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দৈনিক জালালাবাদের নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল কাদের তাপাদার, সিনিয়র ফটো সাংবাদিক আতাউর রহমান আতা, আরটিভি’র কামকামুর রাজ্জাক রুনু, প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তর টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ইকবাল মাহমুদ, প্রেসক্লাবের ট্রেজারার ও দৈনিক প্রভাত বেলার সম্পাদক কবির আহমদ সুহেল, প্রেসক্লাবের সাবেক ট্রেজারার ও যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রশিদ রেনু, প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও নয়া দিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার আফতাব উদ্দিন, দেশ টিভির বিভাগীয় প্রতিনিধি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, আলোকিত বাংলাদেশের ব্যুরো প্রধান  ফারুক আহমদ, বৈশাখী টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শাহাব উদ্দিন শিহাব, প্রেসক্লাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল মুকিত অপি, দৈনিক সিলেট বাণীর নির্বাহী সম্পাদক এম এ হান্নান, দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো প্রধান কবির আহমদ, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সিনিয়র রিপোর্টার এম আহমদ আলী, সাংবাদিক চৌধুরী দেলওয়ার হোসেন জিলন, দৈনিক সিলেট বাণীর স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ সাইমুম আনজুম ইভান, দৈনিক দুনিয়া আখেরাতের সম্পাদক ডা: মখলিছুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক প্রভাত বেলার বার্তা সম্পাদক চৌধুরী আমীরুল হোসেন, প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক জালালাবাদের সিনিয়র রিপোর্টার মো. মুহিবুর রহমান, বাংলা নিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমের ফটো সাংবাদিক শেখ আশরাফুল আলম নাসির, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির স্টাফ রিপোর্টার মঞ্জুর আহমদ, মাছরাঙা টিভির স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শাকির হোসাইন, চ্যানেল২৪-এর স্টাফ রিপোর্টার গোলজার আহমেদ, সাপ্তাহিক বাংলার  আলোর প্রধান সম্পাদক এম সিরাজুল ইসলাম, ইউএনবির সিলেট প্রতিনিধি ছিদ্দিকুর রহমান, দৈনিক দুনিয়া আখেরাতের চিফ রিপোর্টার মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, দৈনিক প্রভাত বেলার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক নাছির আহমদ খান, সিনিয়র রিপোর্টার মুহিব আলী, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল আহাদ, বিশ্ববাংলা সম্পাদক মুহিত চৌধুরী, স্টাফ ফটোগ্রাফার নাজমুল কবীর পাভেল, দৈনিক সিলেটের ডাকের স্টাফ রিপোর্টার আনাস হাবিব কলিন্স ও সুনীল সিংহ, দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার কামরুল ইসলাম, এনামূল হক, মুনশী ইকবাল ও আবু বকর সিদ্দিক, দৈনিক আমার দেশের স্টাফ ফটোগ্রাফার বেলায়েত হোসেন, চ্যানেল এসের চিফ ক্যামেরাম্যান লিটন চৌধুরী, সময় টিভির স্টাফ ক্যামেরাম্যান দিগেন সিংহ ও নৌসাদ আহমদ চৌধুরী, এটিএন বাংলার স্টাফ ক্যামেরাম্যান ইকবাল মুন্সি প্রমুখ।