সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে টিইউসির স্বরণ সভা

সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে টিইউসির স্বরণ সভা

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অদ্য ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ বিকেলে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) উদ্যোগে ২২/১ তোপখানা রোডস্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক স্বরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

টিইউসির সভাপতি শ্রমিক নেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় আলোচনা করেন টিইউসির সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, সহ সভাপতি মাহবুব আলম, আব্দুর রাজ্জাক, দপ্তর সাহিদা পারভীন শিখা, ঢাকা মহানগর টিইউসির সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সাইফউদ্দিন মানিক ছিলেন গত শতকের ষাটের দশকের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা। ১৯৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী যে ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে তার সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়ন এক অংশের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। তিনি ছিলেন আইউব বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের ১১—দফা কর্মসূচির অন্যতম প্রণেতা, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা এবং উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক।

১৯৬৯ সালেই তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে যুক্ত হন ট্রেড ইউনিয়নের সাথে। গড়ে তোলেন ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন। সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ওই বছরই তিনি ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের সিবিএ সভাপতি নির্বাচিত হন। সত্তর দশকে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) প্রতিষ্ঠা হলে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর তার নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়নের আন্দোলন—সংগ্রামকে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি উজ্জ্বল নাম সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রথম সারির সংগঠক। তরুণ ছাত্র—ছাত্রী, শ্রমিক ও কৃষকদের রিক্রুট, ট্রেনিং, অস্ত্রশস্ত্র ও রসদের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি এবং কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনার যোদ্ধাদের অন্যতম পরিচালক ও সংগঠক ছিলেন তিনি।

১৯৮৪ সালে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর আন্দোলন ও ১৯৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ৩ জোটের অভিন্ন রূপরেখা প্রনয়ণে কমরেড ফরহাদের পরেই তাঁর ভূমিকা মূখ্য ছিল। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি এবং আমৃত্যু গণফোরাম এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পারন করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি সাইফউদ্দিন মানিক ছিলেন খোলোয়াড়ও। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। বাল্যকাল থেকেই খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তিনি অনুরাগী ছিলেন। তিনি ছিলেন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তিনি ছিলেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের আজীবন সদস্য। মৃত্যুর সময় তিনি ব্রাদার্স ইউনিয়নের সিনিয়র সহ—সভাপতি ছিলেন। নেতৃবৃন্দ সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের রাজনৈতিক ও শ্রমিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি