শেষ হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বে তিন মোড়লের আধিপত্য

শেষ হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বে তিন মোড়লের আধিপত্য

শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ক্রিকেটের ভবিষ্যতই ঘোর অন্ধকারে ফেলে দেয়ার উপক্রম করেছিল বিশ্ব ক্রিকেটের তিন মোড়ল ভারত-অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করলে যে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায় না, সেটি টের পেল বিশ্ব ক্রিকেটের ক্ষমতাধর এই দেশগুলো।

কেননা আইসিসিতে খর্ব হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের এই তিন মোড়লের আধিপত্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে এই তিনটি দেশের আধিপত্য শেষ করতে সংস্থাটির গঠনতন্ত্র ও প্রশাসনিক ক্ষমতায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। গতকাল বুধবার দুবাইয়ে আইসিসির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশোধনী গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুন মাস থেকে গোপন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে আইসিসির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৪ সালে আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসনের আমলে আইসিসির গঠনতন্ত্রে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছিল তাতে তিন মোড়লের আধিপত্য বিস্তারের বিস্তর সুযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে আইসিসির প্রশাসনে সুশাসন ও সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণকে সর্বপ্রকার বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশোধনীতে বলা হয়েছে, আইসিসির স্বতন্ত্র অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত চেয়ারম্যানের মেয়াদ হবে দুই বছর। কোনও চেয়ারম্যান তিনবারের অধিক মেয়াদে পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি কোনও সদস্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রাখতে পারবেন না।

এছাড়া চেয়ারম্যানে পদে নির্বাচন করতে হলে সে ব্যক্তিকে অবশ্যই বর্তমান বা সাবেক আইসিসির নির্বাহী পরিষদের সদস্য বা ডিরেক্টর হতে হবে। এছাড়া প্রার্থীকে দুজন পূর্ণ সদস্যর সমর্থন জোগাড় করতে হবে। আইসিসির নির্বাহী কমিটি এবং ফিন্যান্স ও কমার্শিয়াল অবকাঠামোতেও পরিবর্তন আসছে। এই দুটি কমিটিতে আগের নিয়মানুয়ায়ী ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিদের স্থায়ী সদস্য পদ ছিল। কিন্তু সংশোধিত নিয়মানুয়ায়ী ২০১৬ সালের জুন মাস থেকে এই তিন ক্রিকেট শক্তির স্থায়ী পদ বিলুপ্ত হবে।

এই পরিবর্তনটি আনা হয়েছে যাতে আইসিসির যে কোনও পরিচালক নিজ যোগ্যতা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রমাণ রেখে কম‌িটিতে স্থান করে নিতে পারেন। এছাড়া কমিটিগুলোতে যাতে আইসিসির প্রত্যেক সদস্য ও সহযোগী সদস্যদের সমান সুযোগ থাকে সে জন্য এই সংশোধনী আনা হচ্ছে।

আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহরের নেতৃত্ব পাচ সদস্য বিশিষ্ট স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে একটি সভার মাধ্যমে তারা সংশোধনী সংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারেন। বিশ্বব্যাপি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এখন থেকে আইসিসি নির্বাহী কমিটির বাৎসরিক চারটি সভার তিনটি দুবাইয়ের বাইরে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আইসিসির সক্রিয় যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

শশাঙ্ক মনোহর বলেন, আমরা বেশ কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সভা করেছি। আইসিসিতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে আইসিসির সব সদস্যই সমান। কেউ কারও চেয়ে বড় নয়।